দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত চিত্রটি বয়োসন্ধিকালে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
সংস্কৃতি বলতে কোনো সমাজের সদস্যদের অভ্যস্ত আচরণের ধারাকে। বোঝায়। বিনোদন, চলাফেরা, পোশাক-আশাক, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছু। ছেলেমেয়েরা তার সংস্কৃতি প্রথা অনুযায়ী করে থাকে। পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন, মনোভাব, বিশ্বাস, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নৃত্য, খেলাধুলা, চিত্রকলা, আচার-অনুষ্ঠান সবই সাংস্কৃতিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। বয়োসন্ধিকালকে সঙ্কটকাল বলা হয়। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে ওঠে। তারা চায় সিনেমা বা নাটকের নায়কের মত হতে। কল্পনার নায়ক এবং বাস্তবের নায়কের মধ্যে অনেক তফাৎ- এটি সে বাস্তবতার নিরীখে বুঝতে পারে। কোনো গান শুনে ছেলেমেয়েরা ভাবে সে খুব ভালো গান গাবে। কিন্তু বাস্তবে যেয়ে দেখে তা খুবই কঠিন কাজ। যে সব পরিবারে মা বাবা গান জানে বা অভিনয় করে সে পরিবারের ছেলেমেয়েরা আস্তে আস্তে গান শিখে বা অভিনয় করে। বয়োসন্ধিকালে এসে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেতে উঠে। মা-বাবা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সহনশীল হলে ছেলেমেয়েরা এ বয়সে সাংস্কৃতিক কর্মে জড়িয়ে পড়ে। অনেকক্ষেত্রে মা-বাবা সাংস্কৃতিক কর্মী না হলে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের সংস্কৃতির চর্চা দেখে তাদের এদিকে শিক্ষা দেন। কাজেই এ বয়সে ছেলেমেয়েরা মা বাবার অনুপ্রেরণায় এবং অনুকূল পরিবেশের সাহায্যে সহজেই সাংস্কৃতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী জীবনে সাংস্কৃতিক কর্মী হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বয়োসন্ধিকালে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ।