ঝিনুকের মধ্যে শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মানসিক পরিবর্তনও লক্ষ করা যায়- নিচে মানসিক পরিবর্তনসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ: বয়োসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের দেহের দ্রুত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্য আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভুত মনে হয়। দৈহিক বৃদ্ধির ফলে ছেলেমেয়েরা অস্বস্তি অনুভব করে। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে তাদের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
২. একঘেয়েমী: এ সময়ে ছেলেমেয়েরা একঘেয়ে হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা ছোটবেলার মতো খেলাধুলা, স্কুলের কাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে আনন্দ পায় না। তাছাড়া এরা যতটুকু কাজ করতে সক্ষম তার সদ্ব্যবহার করতে চায় না।
৩. একাকী থাকার ইচ্ছা: ছেলেমেয়েরা এ সময়ে সবার সাথে মেলামেশা করতে চায় না, একা থাকতে চায়। এ সময় বিভিন্ন কাজকর্ম ও খেলাধুলা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। সকলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং তাদের ভুলভাবে বিচার করছে এ সম্পর্কে তারা প্রায় সময়ই চিন্তা-ভাবনা করে।
৪. আবেগের পার্থক্য: বয়োসন্ধিকালের অভিমান, ভাবপ্রবণতা, রাগে ফেটে পড়া, সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদির ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাসা বাঁধে। এছাড়া মাসিক শুরু হলে মেয়েরা অস্থিরতা ও বিষণ্ণতায় ভোগে এবং কারো কথা না শোনার মনোভাব দেখা দেয়।
৫. সামাজিক বৈরিতা: ছেলেমেয়েরা কারো সাথে একমত পোষণ করতে চায় না, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে এবং একে অন্যের সহযোগিতা করতে চায় না। ছেলেমেয়েরা পরস্পরকে হিংসা করে, একে অন্যের সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে এবং অবমাননাসূচক মন্তব্য করে। বয়োসন্ধিকালের শেষেরদিকে এসে এসব ভাব কমে আসে এবং সহনশীল হয়ে ওঠে।
৬. অতিরিক্ত লজ্জা: এ সময়ে পরিস্ফুট যৌন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেয়ে অন্য ব্যক্তি বিরূপ মন্তব্য করতে পারে ভেবে এরা লাজুক হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত যৌন পরিবর্তনের কারণেই এরা অনেকটা ভীত হয়ে পড়ে।
৭. আত্মপ্রত্যয়ের অভাব: সহনশীলতার অভাব এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও সঙ্গীদের কাছ থেকে সবসময় কাজের সমালোচনা শোনার ফলে এদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয়ের অভাব দেখা দেয়। ফলে এ বয়সে অনেকের মধ্যে হীনম্মন্যতা দেখা যায়।