'সাদমান ও শাহীন উভয়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশ হলো পারিবারিক পরিবেশ। উভয়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশ এক হলেও ধরন ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পারিবারিক পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পিতা-মাতা হচ্ছে ব্যক্তির প্রথম আশ্রয়স্থল। গর্ভকাল থেকে মায়ের কষ্ট শুরু হয় এবং সন্তান জন্ম লাভের পর জীবন চক্রের প্রতিটি ধাপে মায়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। একইভাবে পিতা ও সন্তানের চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকে। একটি সুখী পরিবার শিশুর সুষ্ঠু আচরণ বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। সুদ্ধ পারিবারিক পরিবেশে শিশুর মধ্যে কিছু ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা যায়। এগুলো হলো সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাব, মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন, সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়ে, আস্থাবান ও আশাবাদী হয়, স্বাবলম্বী হয় এবং সহজে অন্যের সাথে মেলামেশা করতে পারে।অনেক মা সন্তানের সাথে একনায়কসুলভ আচরণ করে থাকেন। সন্তানের প্রতি সবসময় বিরক্ত হন, রাগ করেন, অবহেলা করেন, দৈহিক শাস্তি দেন। সন্তানের চাহিদা, মানসিকতা কোনোকিছু বোঝার চেষ্টা না করে বরং মায়ের অযৌক্তিক ইচ্ছা চাপিয়ে দেন। এতে মায়ের সাথে সন্তানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়, সন্তান মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় যার নেতিবাচক প্রভাব বয়োসন্ধিকালসহ জীবনের পরবর্তী পর্যায়েও পরিলক্ষিত হয়।
জি ওয়াটসন দুটি পৃথক দলের শিশুদের নিয়ে গবেষণা করেন। এক দল শিশুদের উপর পিতামাতার নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং অন্য দলের শিশুরা পিতা-মাতার কাছ থেকে বেশ স্বাধীনতা পেত। ফলাফলে দেখা যায় যে, যেসব শিশুরা পিতা-মাতার নিকট থেকে অধিক স্বাধীনতা পেয়েছে তারা খুব আত্মবিশ্বাসী, উদ্যোগী ও সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। এসব শিশুরা জটিল পরিবেশেও নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারে।
বয়োসন্ধিকালের আচরণ মা-বাবার সাথে তাদের সমঝোতার উপর নির্ভরশীল। বেলার ও তাঁর সঙ্গীরা (১৯৬৪) দেখেন যে, শিশুরা তাদের মা বাবাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আসন দান করে এবং যেসব শিশু তাদের মা বাবার আদর্শ অনুসরণ করে তারা তাদের মা বাবাকে অনেক উপরে স্থান দিয়ে থাকে ও তারা সুখী হয়ে থাকে। ছেলেমেয়েরা বয়োসন্ধিতে স্বাধীনচেতা হয়। মা- বাবা এ সময়ের স্বাধীনতাকে কিছু সন্দেহের চোখে দেখে থাকে। যে শিশু ছোটবেলায় রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয় সে পরনির্ভরশীলতা, মা বাবার কাছে নত থাকা এবং অন্যের সাহায্য নিয়ে কাজ করে থাকে। বয়োসন্ধিকালে ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় পরিবার থেকে অধিক বিচ্ছিন্ন থাকতে চায়। গৃহ- পরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে শিশুদের মধ্যে নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি ইতিবাচক আচরণ গড়ে উঠে। সুতরাং বয়োসন্ধিতে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব পড়ে থাকে।