উদ্দীপকে মিফতার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, দাড়ি-গোঁফ গজানো ইত্যাদি হচ্ছে বয়োসন্ধির বৈশিষ্ট্য। নিচে বয়োসন্ধি বা মিফতার পরিবর্তনের বইয়ের আলোকে কারণসমূহ বর্ণনা করা হলো-
১ . পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গোনাডোট্রপিক হরমোন যৌন গ্রন্থির কর্মকান্ডের উপর প্রভাব ফেলে। বয়োসন্ধির ঠিক পূর্বে গোনাডোট্রপিক হরমোনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌন গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায় বলে যৌন পরিবর্তন শুরু হয়।
২. যৌন গ্রন্থির ভূমিকা: বয়োসন্ধিকালে যৌন গ্রন্থি পূর্ণতা লাভ করে এবং যৌন হরমোন বৃদ্ধি পায়। এ সময় পুরুষদের ক্ষেত্রে এন্ড্রোজেন নামক একধরনের যৌন হরমোন নিঃসৃত হয়। এ এন্ড্রোজেনের প্রভাবেই মিফতার শারীরিক গঠন ও কন্ঠস্বরের পরিবর্তন, বগল ও যৌনাঙ্গের আশেপাশে লোম উদগমন, যৌনাঙ্গ বর্ধিত হওয়া, দাড়িগোঁফ গজায়। যৌন হরমোনের প্রভাবেই মিফতার পুরুষসুলভ আচরণগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে।
৩. পিটুইটারি গ্রন্থি ও যৌন গ্রন্থির পরিপক্কতা: যৌন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনকে পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন গোনাডোট্রপিক হরমোন উদ্দীপিত করে কিন্তু যৌন গ্রন্থির রস আবার পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন বর্ধক হরমোনের উপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ বর্ষক হরমোনের পরিমাণ হ্রাস পায়। হরমোনের কর্মকান্ডের এরূপ মিথস্ক্রিয়ার ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ধীরগতিসম্পন্ন হয়। তা না হলে মিফতা শুধু বড় হতে থাকত।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে মিফতার পরিবর্তনগুলো বয়োসন্ধিকালের পরিবর্তন এবং স্বাভাবিক পরিবর্তন। এ পরিবর্তন সবার জীবনেই আসে।