মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প ২-এ চিত্র-ক তে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং চিত্র-খ তে রাজনৈতিক পরিবেশ দৃশ্যমান। তবে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প-২ এ দেখানো চিত্র কৃ'তে প্রদর্শিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
পারিবারিক ও শিক্ষাঙ্গনের বাইরেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষভাবে প্রভাববিস্তারকারী পরিবেশ হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিশুদের একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে উঠে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশের সাথে সঠিক মিথস্ক্রিয়ায় শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজন আচরণ লক্ষ করা যায়। এ সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজনমূলক আচরণ রপ্তকারী শিশুই হলো সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের শিশু। শিশু-কিশোরীরা সব সময় সমবয়সীদের পাশাপাশি সমমনাদের নিয়ে দল গঠন করতে ও দলভুক্ত হয়ে থাকতে পছন্দ করে। তারা নিজ দলের সাথে একাত্মতা বজায় রাখার স্বার্থে দলীয় আনুগত্যমূলক আচরণ, গুণাবলি, কার্যাবলি ইত্যাদি অনুকরণ ও অনুসরণ করে।
এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো শিশু যাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে সেই সময়বয়সী বন্ধু-বান্ধবদের আচার-আচরণ। কারণ, শিশুদের সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে 'সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস এবং অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ উক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবেই শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের নতুন নতুন মূল্যবোধ তৈরি হয়। ব্যাপক অর্থে, সাংস্কৃতিক পরিবেশ হলো শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য, খেলাধুলা, চিত্র, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি। যা শিশুর আচরণ ও মানসিক বিকাশকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশগত প্রভাব শিশুদের নান্দনিক চেতনাকে বিকশিত করে। অপরদিকে অপসংস্কৃতি তথা অপসাহিত্য ও চলচ্চিত্র শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্যকে বিঘ্নিত ও অনেকাংশ প্রভাবিত করে।
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় চিত্র-ক তে প্রদর্শিত চিত্রের প্রভাবই অধিক।