বাংলাদেশে মানসিক অশান্তির ঝুঁকিসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১ . পরিবার: বাংলাদেশে বেশিরভাগ পরিবার অসচেতনতা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য পূর্বসংস্কার এসবের প্রভাবে ছেলেমেয়েদের সাথে নেতিবাচক আচরণ করে থাকে যার প্রভাব সন্তানদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ হয়ে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ।
২. সঙ্গদোষ: ছেলেমেয়েরা যাদের সাথে চলাফেরা করে যেমন, খেলার সাথী, বন্ধুদল, এদের আচরণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা মূল্যবোধ, পছন্দ-অপছন্দ এসব যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ত্রুটিপূর্ণ হয়। সুতরাং আমাদের দেশে সঙ্গদোষ সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের পথে অন্তরায়।
৩. বেকারত্ব: যুব সমাজই দেশের প্রকৃত শক্তি। কিন্তু বেকারত্বের দরুন এ শক্তি অপচয় ঘটে। বেকার হওয়ার দরুন তাদের কোনো কাজ থাকে না। যা তাদের মধ্যে হতাশা ও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।
৪. মাদকাসক্তি: নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সঙ্গদোষ, কালো টাকার প্রভাব, হঠাৎ বড়লোকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার কারণে ইদানীং সমাজে মাদকাসক্তির হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের কিশোররা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে
৫. নিরক্ষরতা: বাংলাদেশে এখনও নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত। শিক্ষার অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ বা চাকরি না পেয়ে এক সময় হতাশায় ভোগে ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
৬. দারিদ্র্য: ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশে দারিদ্রদ্র্য বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। দারিদ্র্যের কারণে ব্যক্তি তার মৌলিক চাহিদা পূরণে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। আর এ প্রভাব পড়ে তাদের সন্তানদের উপর। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে দারিদ্র্যের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়।