খলিল সাহেব মুক্ত পালন পদ্ধতির পরিবর্তে অর্ধমুক্ত পালন পদ্ধতিতে মুরগি পালনের মাধ্যমে বাড়তি খরচ হওয়া সত্ত্বেও তার উদ্ভুত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পেরেছিলেন।
মুক্ত পালন পদ্ধতিতে অল্প সংখ্যক মুরগি বাড়ির উঠোনো কম খরচে পালন করা হয় বলে এই পদ্ধতিতে খরচ কম হয়। কিন্তু অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে দিনের বেলা ঘেরা জায়গায় এবং রাতের বেলা দোচালা ত্রিভুজ ঘরের মধ্যে মুরগি পালন করা হয়। এক্ষেত্রে ঘর ও ঘর সংলগ্ন রান তৈরিতে জায়গা ও খরচ বেশি লাগে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে, খাদ্য ও পানির পাত্র দিতে খরচ বেশি হয়। সুতরাং মুক্ত পালনের তুলনায় অর্ধমুক্ত পালন পদ্ধতিতে খরচ বেশি হয়। তাই খলিল সাহেবের মুরগি পালন পদ্ধতি পরিবর্তনে বাড়তি খরচ হয়েছিল।
অর্ধমুক্ত পালন পদ্ধতিতে মুক্তপালন পদ্ধতিতে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। মুক্ত পালনে মুরগি যেখানে সেখানে ডিম পাড়ে। ফলে ডিম খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু অর্ধমুক্ততে ঠিকমতো ডিম সংগ্রহ করা যায়। মুক্ত পালন পদ্ধতিতে মুরগি চুরি হওয়ার কিংবা শেয়াল, কুকুর, বেজি খেয়ে ফেলার ভয় থাকে। কিন্তু অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে মুরগি রাতে ঘরের ভিতরে থাকায় চুরি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়াও মুক্ত পালন পদ্ধতিতে মুরগি খাদ্য খাওয়ার সময় নোংরা, পচা, নর্দমার কীট ও পানি খেয়ে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে রানের মধ্যে খাদ্য ও পানি থাকায় মুরগি, জীবাণু সংক্রমিত হওয়ায় সম্ভাবনা কম। তাই বলা যায়, মুক্ত অবস্থায় মুরগি পালনে সৃষ্ট সমস্যাসমূহ অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে সমাধান করা যায়। সেক্ষেত্রে তুলনামূলক বাড়তি খরচ হয়।