উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো সারাবছর শুধুমাত্র ধান চাষ করা এবং চিত্র-২ হলো ধান, পাট, ধইন্যা ও আলু ক্রমান্বয়ে চাষ করা। এঁটেল বুনটের মাটির জন্য চিত্র-১ বেশি উপযোগী। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
যে মৃত্তিকা বুনটে বালিকণার অনুপাত শতকরা ২৫ ভাগের কম, পলিকণার অনুপাত শতকরা ২০ ভাগের কম এবং কর্দমকণার অনুপাত ৭০-৭৫ ভাগ তাকে এঁটেল মাটি বলে। পলি এঁটেল, এঁটেল ও বেলে এঁটেল এ বুনটের অন্তর্গত। এ মাটির পানি ধারণক্ষমতা বেশি কিন্তু পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কম। শুষ্ক অবস্থায় এ মাটি খুবই শক্ত এবং ভিন্ন 'অবস্থায় আঠালো। আবার ধান চাষের জন্য জমিতে সবসময় পানি থাকতে হয়। আউশ ও আমন মৌসুমে বৃষ্টি থাকে ফলে জমিতে সেচ কম লাগে, কিন্তু বোরো সময়ে সেচ দিয়ে চাষ করতে হয়। এঁটেল বা দোআঁশ এঁটেল বাদে অন্য বুনটের মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম। অন্য বুনটের মাটির জন্য অনেক বেশি সেচের প্রয়োজন হবে। এঁটেল মাটির পানিধারণ ক্ষমতা বেশি ফলে ধান চাষের জন্য এঁটেল বুনটের মাটি ভালো। অন্যদিকে এঁটেল বুনটের মাটিতে আলু বা পাট চাষ করা সম্ভবই নয়। কারণ আলু চাষের জন্য মাটি ঝুরঝুরা হতে হয়। জমিতে পরিমাণের বেশি পানি জমে থাকলে আলু পচে যায়। পাট চাষের জন্য পানি জমে থাকেনা এমন জমি প্রয়োজন। আবার পাটের বীজ খুব ছোট বলে ফসলের জমি অনেক মিহি হতে হয়। যা এঁটেল বুনটের মাটি দিয়ে হয় না। ধইঞার ক্ষেত্রেও এঁটেল বুনটের মাটিতে বীজ সহজে অঙ্কুরোদগম হয় না, এবং ছোট অবস্থায় পানি জমে থাকলে ধইঞার গোড়ায় পচন ধরে। অর্থাৎ ধান ব্যতীত অন্য কোনো ধরনের ফসলের জন্যই এঁটেল বুনটের মাটি উপযোগী নয়।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় এঁটেল বুনটের মাটির জন্য চিত্র-১ তথা ধান চাষ বেশি উপযোগী।