উদ্দীপকে আব্দুর রউফ কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনার উপায়গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো—
১. জৈব পদার্থ প্রয়োগ: মাটির উর্বরতা রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য খামারজাত সার, আবর্জনা পচা সার, সবুজ সার, গোবর, খৈল, ছাই, হাড়ের গুঁড়া, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে নিয়মিতভাবে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
২. রাসায়নিক সার প্রয়োগ: গাছ মাটি থেকে সবসময় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করায় মাটিতে পুষ্টির ঘাটতি হয় যা পরিমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা যায়।
৩. লিগিউম জাতীয় শস্যের চাষ: লিগিউম জাতীয় শস্যের শিকড়ে রাইজোবিয়াম নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া গুটি তৈরি করে। তাতে বায়ুমণ্ডল হতে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে সঞ্চয় করে । যা জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
৪. জমির আগাছা দমন: আগাছা চাষের মাধ্যমে জমিতে মিশিয়ে দিলে তা পচে মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রক্ষিত হয়।
৫. উত্তম কর্ষণ: মাটি যত বেশি চাষ হবে গাছের জন্য পুষ্টি উপাদান তত সহজলভ্য হবে এবং জৈব পদার্থ দ্রুত পচবে। ফলে মাটিতে পুষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
৬. পানি সেচ ও নিকাশ ব্যবস্থা: গাছের, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো মাটিস্থ পানির মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে সেগুলো গ্রহণ করে। জমিতে যদি পানির অভাব হয় তবে গাছ খাদ্য উপাদানগুলো গ্রহণ করতে পারে না। আবার অনেকদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকলে উদ্ভিদ পুষ্টির অনেক অপচয় হয় এবং মাটিতে অবস্থিত অনেক অণুজীবের কার্যাবলি বন্ধ হয়ে যায়।
৭. পর্যায়ক্রমিক ফসলের চাষ: বছরের পর বছর যদি একই ফসল বার বার চাষ করা হয় তবে মাটির একটি নির্দিষ্ট স্তরের পুষ্টি উপাদান শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই জমিতে একই শস্য বার বার চাষ না করে ৩-৪ বছর মেয়াদি শস্য পর্যায় অনুসরণ করে মাটির উর্বরতা রক্ষা করা সম্ভব।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে মাটি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কৃষিকর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ ছিল।