উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় মি. রিপনের জমির মাটিতে অম্লত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তার জমিতে সৃষ্ট এ সমস্যা নানা কারণে হতে পারে যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—
১. মাটি উৎপাদনের উৎস শিলা অম্লীয় হলে উৎপন্ন মাটি অম্লীয় হয়। মাটিতে গ্রানাইট, ক্রায়োলাইট, বালি পাথর ও নীস ইত্যাদি বেশি থাকলে মাটি অম্লীয় হয়।
২. মাটিতে অ্যামোনিয়াম সালফেট, ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড জাতীয় অম্লীয় সার বেশি ব্যবহার করলে মাটি অম্লীয় হয়।
৩. মাটিতে অণুজৈবিক শ্বসন থেকে উৎপাদিত কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি মিলিত হয়ে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে, যা মাটির ক্ষারক উপাদানের অপচয় ঘটিয়ে মাটিতে অম্লত্ব বাড়ায় ।
৪. বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০ সে.মি. এর বেশি হলে এবং চুয়ানি বেশি হলে, জমির উপরিভাগ থেকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম অপচয় বেশি হয়। ফলে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায় । ৫. জৈব পদার্থের বিয়োজনের ফলে মাটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়, ফলে অম্লত্ব বাড়ে ।
৬. জমিতে ফসল উৎপাদনের তীব্রতা যত বাড়ে, মাটিতে অম্লত্ব বৃদ্ধিও তত বাড়ে। জমিতে অতিরিক্ত ফসল কাটা হলে এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম অপসারিত হয়। ফলে অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।
৭. বায়ুস্থ CO2, SO2, NO প্রভৃতি যৌগ, যা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে মিশে এসিড বৃষ্টিরূপে মাটিতে পতিত হয়। ফলে অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।
৮. মাটিতে আয়রন, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি খনিজ উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে । এসব উপাদান মাটিস্থ পানির সাথে বিক্রিয়ায় মাটি অম্লীয় হয় ।
অতএব বলা যায়, উপরোল্লিখিত কারণগুলোর যে কোনো এক বা একাধিক কারণের জন্য মি. রিপনের জমির মাটিতে অম্লতাজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।