জমিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী নাসিরের গৃহীত কার্যক্রম অর্থাৎ মাটি সংশোধনের গুরুত্ব নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
আমরা জানি, মাটিতে অম্লত্ব বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন (লৌহ) ইত্যাদি প্রাপ্তি বেশি হয় ও গাছের পক্ষে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর সাথে বিনিময়যোগ্য ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ কমে যায় ও গাছ এসব প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিতে পড়ে। ফসফরাসের প্রাপ্তিও কমে যায়। কেননা পিএইচ কমলে অ্যালুমিনিয়াম ও আয়রন ফসফেটের সঙ্গে রাসায়নিক সংযোগে ফসফেট মাটিতে আবদ্ধ হয়ে যায়। সারের মাধ্যমে দেওয়া ফসফেটের ঘাটতি সৃষ্টি হয়। ল্যাটারাইট শ্রেণির মাটিতে এ প্রক্রিয়া বেশি হয়। অম্ল মাটিতে মলিবডেনামের প্রাপ্তি কমে। কিন্তু লৌহ, বোরন, দস্তা ও ম্যাঙ্গানিজের প্রাপ্তি বৃদ্ধি পায়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য ফসলের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ফসল উৎপাদনে মাটির অম্লত্ব একটি মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা, তাই ফসল ফলানোর পূর্বে অবশ্যই অম্লত্ব দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই কৃষি কর্মকর্তা অম্লত্ব সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। সুতরাং, মি. রিপনের জমির মাটির অম্লতা প্রশমনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ যথার্থ ছিল।
সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, জমিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রম জমিতে ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।