উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত গ্রন্থিটি হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। এ গ্রন্থিটি মানুসের দেহ ও মনের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।
এ সকল গ্রন্থির মধ্যে থাইরয়েড বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গলদেশের শ্বাসনালির দুইপাশে এ গ্রন্থিটি অবস্থিত। এ গ্রন্থি প্রধানত দুই ধরনের রস বা হরমোন ক্ষরণ করে থাকে; যথা- ১. থাইরক্সিন ও ২. ট্রাই- আয়োডো-থাইরনিন। থাইরক্সিন শরীরের কোষ বিভাজন ও.মৌল তাপ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে । এর আধিক্যে শারীরিক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের তাপ উৎপাদনের হার বেড়ে যায় ।
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় রস ক্ষরিত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বুদ্ধি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় এবং ক্রেটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয়। ক্রেটিনিজম্ রোগে আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, বুদ্ধিও সুষ্ঠু স্বাভাবিক হয় না ৷ এসব শিশুর বেশিরভাগ হয় মানসকি প্রতিবন্ধী। যৌন বিকাশ ঠিকমতো হয় না। সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই রোগে শিশু খর্বাকৃতি, ক্ষীণদেহী, স্ফীতোদর ও ক্ষীণবুদ্ধির হয়। পরিণত বয়সে এ হরমোনের কমতি হলে মিক্সেডেমা নামক রোগের আবির্ভাব ঘটে। মিক্সেডেমা রোগ হলে রক্তের চাপ কমে যায়, দেহের বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয়, ত্বক শুষ্ক ও কুঞ্চিত হয়ে যায়, চেহারায় লাবণ্য কমে যায়, কাজে অলসতা দেখা দেয় এবং উদ্যম কমে যায় ।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, থাইরয়েড গ্রন্থি মানুষের দেহ ও মনের স্বাভাবিক বিকাশে যে ভূমিকা পালন করে তা অনস্বীকার্য।