উদ্দীপকে রহিম ও কামালের সমস্যার জন্য একই গ্রন্থি তথা থাইরয়েড গ্রন্থিই দায়ী— উক্তিটি যথার্থ ও যথোপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
মানবদেহ ও মনের বিকাশ বহুলাংশে থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর নির্ভর করে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন মানব দেহের গঠন, হাড়ের গঠন ও ক্যালসিয়াম বিপাকে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ হরমোনের অভাবে শিশুরা ক্রেটিনিজম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে । থাইরক্সিনের অভাব ব্যক্তির অলসতা বাড়িয়ে দেয়, শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়, ব্যক্তি অল্পতেই ক্লান্তিবোধ করে এবং দৈনন্দিন কাজে তার আগ্রহ কমে যায়। এছাড়াও প্রয়োজনীয় হরমোনের অভাবে শরীরের লোম খসখসে হয়, চামড়া শুষ্ক ও তামাটে রঙের হয় এবং কখনো কখনো গলার স্বরও কর্কশ হয়ে যায়।
উদ্দীপকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, কামাল খুবই হালকা গড়নের এবং শারীরিকভাবে সে খুব দুর্বল প্রকৃতির। সে বাড়ির কাজে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং অল্প শারীরিক পরিশ্রমের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে, রহিম খুবই খাটো প্রকৃতির এবং গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত। আমরা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের অভাবজনিত সেসব লক্ষণ দেখতে পাই তার মধ্যে লিটন ও শান্তর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল সমস্যাই অন্তর্ভুক্ত।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত রহিম ও কামালের সমস্যার জন্য নির্দ্বিধায় থাইরয়েড গ্রন্থিকে দায়ী করা যায়। থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরণ স্বাভাবিক হলে চেহারায় লাবণ্য বৃদ্ধি পায়, ব্যক্তি বুদ্ধিমান, অনুভূতিপ্ৰৰণ ও কর্মঠ হয়ে ওঠে।