উদ্দীপকে নাহার ও সুমির শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী হরমোনগুলো হলো পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত অক্সিটোসিন হরমোন ও থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন। নিচে হরমোনগুলোর তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
অক্সিটোসিন হরমোনটির কমতি ঘটলে গর্ভবতীদের সন্তান প্রসবে বিঘ্ন ঘটে । এই হরমোন জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণ ঘটায় ।
পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ অংশ সম্মুখ অংশ অপেক্ষা কম সক্রিয়। পশ্চাৎ অংশ থেকে যে রস ক্ষরিত হয় তা অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে, অন্ত্র, মূত্রাশয় প্রভৃতিকে সক্রিয় করে তোলে; প্রসবকালে জরায়ুর - পেশিকে সংকুচিত করে সন্তান ক্রিয়ায় সহায়তা করে; যৌন শক্তিকে প্রভাবিত করে এবং দেহের চলন ভংগিমাকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
অন্যদিকে, থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় রস ক্ষরিত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্রোটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয়। ক্রোটিনিজম্ রোগে আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, বৃদ্ধিও সুষ্ঠু, স্বাভাবিক হয় না। এসব শিশুদের বেশিরভাগ হয় মানসিক প্রতিবন্ধি। যৌন বিকাশও ঠিকমতো হয় না। সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠে। এই রোগে শিশু খর্বাকৃতি, ক্ষীণদেহী স্ফীতোদর ও ক্ষীণবুদ্ধির হয়।
থাইরক্সিন হরমোন মানব দেহের গঠনে, হাড়ের গঠনে, ক্যালসিয়াম বিপাকে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। শৈশবে এই থাইরক্সিন হরমোনের অভাবে অস্থি ও দাঁতের গঠন ব্যাহত হয়। ফলে অনেক শিশু ক্রেটিনিজম নামক মারাত্মক রোগের কবলে পড়ে।
আমাদের দেশে প্রচুর লোক গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে । থাইরক্সিন রসের আধিক্য ঘটলে গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগ দেখা দেয় ।