উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ যথাক্রমে স্নায়ুকোষ ও সন্নিকর্ষকে দেখানো হয়েছে, যা শারীরবৃত্তীয় কাজে গভীর প্রভাব ফেলে। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হল—
স্নায়ুকোষ তার বিভিন্ন কার্যাবলির দ্বারা মানব শারীরবৃত্তীয় কাজকে প্রভাবিত করে। স্নায়ুকোষকে যে তিনভাগে ভাগ করা যায় তার মধ্যে একটি হলো অন্তর্মুখী স্নায়ুতন্ত্র, যার কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে সংবেদন বা উদ্দীপনা বহন করে মস্তিষ্কে নিয়ে আসা। বহির্মুখী মায়ুকোষের মধ্যে রয়েছে গতিবাহী স্নায়ুকোষ যা মাংসপেশির সাথে যুক্ত থেকে পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে । এছাড়াও রয়েছে ক্ষরণশীল স্নায়ুকোষ, যা গ্রন্থির সাথে সংযুক্ত থেকে গ্রন্থিকে রাসায়নিক পদার্থ ।
ক্ষরণে উত্তেজিত করে । এছাড়াও কার্যবর্ধক স্নায়ুকোষ ও অবদমনকারী স্নায়ুকোষ রয়েছে, যা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও মাংসপেশির কাজকে অবদমনের সাথে জড়িত থাকে।
চিত্র-১ এর স্নায়ুকোষের মতো চিত্র-২ এর সন্নিকর্ষও মানব শারীরবৃত্তীয় কাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সন্নিকর্ষের মেরুকরণ, বাধা ও ক্লান্তি এই তিনটি সন্নিকর্ষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সন্নিকর্ষের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো— এক স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা অপর একটি স্নায়ুকোষে হয় সম্পূর্ণ পরিবাহিত হবে, না হয় একেবারেই হবে না। এখানে মাঝামাঝি সঞ্চালন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা একের বেশি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে। আবার ঠিক একইভাবে অনেকগুলো স্নায়ুকোষের উদ্দীপনা একই সাথে একত্রিত হয়ে একটি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে। তবে সব সন্নিকর্ষ একমুখী নয়, বরং কতকগুলো সন্নিকর্ষের ক্ষেত্রে সংকেত উভয় দিকে প্রবাহিত হয়। এভাবে স্নায়ুকোষের মতো সন্নিকর্ষও মানব শারীরবৃত্তীয় কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ।
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, মানব শারীরবৃত্তীয় কাজের সাথে স্নায়ুতন্ত্র ও সন্নিকর্ষের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। আর তাই মনোবিজ্ঞানের আলোচনার ক্ষেত্রে এ দু'টি বিষয় মানব শারীরবৃত্তীয় কাজের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।