শফিকের বর্ণিত গ্রন্থিটি হলো এড্রিনাল গ্রন্থি।
মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোর মধ্যে এড্রিনাল গ্রন্থি অন্যতম। এই গ্রন্থির অবস্থান দেহের মাঝামাঝি জায়গায় এবং পিছনের অভ্যন্তরে পিঠের দিকে।
এড্রিনাল গ্রন্থি সংখ্যায় দুটি। প্রতিটি কিডনির উপর একটি করে এড্রিনাল গ্রন্থি অবস্থিত। প্রতিটি এড্রিনাল গ্রন্থির দুইটি করে অংশ রয়েছে। এড্রিনাল গ্রন্থির বাইরের অংশ থেকে কটিন, কর্টিসোল ও কর্টিসোন নামক তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এরা জীবদেহের বিপাক ক্রিয়া, প্রদাহ, জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া প্রভৃতিকে স্বাভাবিক রাখে।
এড্রিনাল গ্রন্থির ভিতরের অংশ থেকে এড্রিনালিন নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। আবেগকালীন অবস্থায় এই হরমোনটি অধিক মাত্রায় ক্ষরিত হয় এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি করে। এ হরমোনের প্রভাবে শরীরে খিঁচুনি দেখা দেয় এবং ঘর্ম নিঃসৃত হতে থাকে। পাকস্থলীর ক্রিয়া হ্রাস পায় এবং এই হরমোন ক্ষরণে কোন সমস্যা হলে দেহের বিপাক ক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং বলা যায়, মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য একটি অন্যতম শর্ত হচ্ছে এড্রিনাল গ্রন্থির স্বাভাবিক ক্ষরণ বজায় থাকা।