উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' গ্রন্থিটির নামকরণের সার্থকতা বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' গ্রন্থিটি আপদকালীন গ্রন্থি হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। মূলত এড্রিনাল গ্রন্থিকে 'আপদকালীন গ্রন্থি' বলা হয়। মানবদেহের দুটি কিডনির উপরিভাগে একটি করে এড্রিনাল গ্রন্থি অবস্থিত। এ গ্রন্থির ভেতরের অংশ থেকে নিঃসৃত এড্রিনালিন হরমোন এবং বহিরাংশ থেকে নিঃসৃত কটিন হরমোন প্রাণীর প্রতিকূল মানসিক অবস্থায় বিশেষ সহায়তা করে বলে এ গ্রন্থিতে আপদকালীন গ্রন্থি বলা হয়। এড্রিনাল গ্রন্থির ভিতরের অংশ থেকে এড্রিনালিন নামক যে হরমোন ক্ষরিত বা নিঃসৃত হয় তা প্রাণীর আবেগকালীন অবস্থায় অতিমাত্রায় ক্ষরিত হয়। এটি রক্তপ্রবাহ থেকে সরাসরি যকৃতে চলে যায় এবং সেখান থেকে শর্করা বের করে নেয়, ফলে রক্তে শর্করার আধিক্য থেকে দেহকোষের প্রচুর শক্তি লাভ হয়। এ বাড়তি শক্তির মধ্য দিয়ে প্রাণী তার জরুরি অবস্থার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি এ হরমোনটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু ব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি করে। ফলে দেহের প্রায় সব স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাবলির গতি বৃদ্ধি পায়। যেমন— এ হরমোনের প্রভাবে শ্বাসতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, রক্তচাপ ইত্যাদির গতি বৃদ্ধি পায়। এড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে দেহের বিপাকক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাবলির কার্যক্ষমতা লোপ পায় এবং প্রেষণার হ্রাস হয়। অন্যদিকে এড্রিনাল গ্রন্থির বহিরাংশ থেকে নিঃসৃত 'কটিন' নামক হরমোনের প্রভাবে দেহের স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়া কার্যকর থাকে। এছাড়া জীবদেহের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তনে এ হরমোনের প্রভাব রয়েছে। এ হরমোন উত্তেজকের কাজ করে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ থেকে প্রাণীকে রক্ষার জন্য প্রাণীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টিতে কটিন হরমোন ভূমিকা রাখে। সবশেষে বলা চলে, আপদকালীন হরমোন 'এড্রিনালিন ক্ষরণসহ মানুষের দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতকল্পে এড্রিনাল গ্রন্থির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
HSC Psychology 1st Paper Chapter 3 :আচরণের জৈবিক ভিত্তি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Psychology 1st Paper · Chapter 3 :আচরণের জৈবিক ভিত্তি · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' গ্রন্থিটির নামকরণের সার্থকতা বিশ্লেষণ করো ।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর

