নিশা ও রিয়ার শারীরিক অসুবিধার জন্য কি একই হরমোন দায়ী? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: না, নিশা ও রিয়ার শারীরিক অসুবিধার জন্য একই হরমোন দায়ী নয়। বরং থাইরয়েড হরমোন ও শরীরবর্ধক হরমোন নামক দুটি ভিন্ন হরমোন দায়ী । থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় রস বা থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্রেটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয়। সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিণত বয়সে এই হরমোনের কমতি হলে মিক্সেডেমা নামক রোগের আবির্ভাব ঘটে। এ রোগ হলে রক্তের চাপ কমে যায়, চেহারায় লাবণ্য কমে যায়, কাজে অলসতা দেখা দেয় এবং উদ্যম কমে যায়। আলস্য, ঝিমুনি ভার, যে কোনো কাজে অনীহা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। অন্যদিকে, পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত শরীরবর্ধক হরমোন শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ হরমোন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্ষরিত হলে শরীরের অতি বৃদ্ধি ঘটে এবং মানুষ দৈত্যের আকৃতির হয়। এতে একটি অল্প বয়স্ক কিশোরকেও ৬ থেকে ৮ ফুট লম্বা একটা দৈত্য বলে মনে হয় । এ ধরনের মানুষকে পিটুইটারী দৈত্য বলে । আবার এ হরমোনের ক্ষরণ কম হলে দেহ খর্বাকৃতির হয় যাকে পিটুইটারী বামন বলে । উদ্দীপকে নিশার প্রায়ই রক্তচাপ কমে যায়। শরীর খুবই দুর্বল এবং ক্লান্ত থাকে । কাজে মনোযোগ থাকে না। তার এসব শারীরিক অসুবিধা থাইরয়েড হরমোনের কমতির কারণে হয়। এ সমস্যাগুলো মিক্সেডেমা নামক রোগের কারণে হয়। অন্যদিকে, রিয়া দিনের পর দিন লম্বা হয়েই চলেছে। তাকে পিটুইটারী দৈত্য বলা যায় এবং এ সমস্যাটি পিটুইটারী গ্রন্থির সম্মুখ অংশ থেকে নিঃসৃত শরীরবর্ধক হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের কারণে হয় । পরিশেষে বলা যায়, হরমোন নামক রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শারীরিক সঠিক বৃদ্ধি এবং সুস্থতার জন্য আবশ্যকীয় উপাদান। তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ক্ষরণ হলে এই হরমোনই নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
HSC Psychology 1st Paper Chapter 3 :আচরণের জৈবিক ভিত্তি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Psychology 1st Paper · Chapter 3 :আচরণের জৈবিক ভিত্তি · সৃজনশীল
নিশা ও রিয়ার শারীরিক অসুবিধার জন্য কি একই হরমোন দায়ী? বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপক
ঢাকা সিটি কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর

