দৃশ্যকল্প-২ এ চিত্রে প্রদর্শিত সমস্যা দুটির পেছনে একই গ্রন্থি তথা 'থাইরয়েড গ্রন্থি দায়ী'।
থাইরয়েড গ্রন্থি দেহের গঠন, বুদ্ধির বিকাশ, দেহের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা এবং আমাদের ব্যক্তিত্বের উপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। গলদেশের শ্বাসনালির দুই পাশে এই গ্রন্থিটি অবস্থিত। এ গ্রন্থি থেকে দুই ধরনের হরমোন ক্ষরণ হয়; যথা- থাইরক্সিন ও ট্রাই-আয়োডে থাইরনিন।
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় রস বা হরমোন ক্ষরিত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্রেটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয়। ক্রেটিনিজম রোগে আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, বৃদ্ধিও সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক হয় না। এসব শিশু বেশির ভাগ সময়ই মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। যৌন বিকাশও ঠিকমতো হয় না। এই রোগের শিশু খর্বাকৃতি, ক্ষীণদেহী, স্ফীতোদর ও ক্ষীণ বুদ্ধির হয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে প্রচুর লোক গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। থাইরক্সিন রসের আধিক্য ঘটলে গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগ দেখা দেয়।
দৃশ্যকল্প-২-এ বাম পাশের চিত্রে গলগন্ড রোগী দেখা যাচ্ছে। যার জন্য থাইরক্সিন রসের আধিক্য দায়ী। অন্যদিকে ডান পাশের চিত্রের রোগী ক্রেটিনিজম রোগে আক্রান্ত।