উদ্দীপক-১ এ উল্লেখিত কামালের মা ও কামালের রোগ দুটি হলো মিক্সেডেমা ও ক্রেটিনিজম।
আমাদের শ্বাসনালির দুই পাশে একটি করে দুইটি থাইরয়েড গ্রন্থি রয়েছে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস দেহের গঠন, বুদ্ধির বিকাশ, দেহের সুস্থতা, কর্মক্ষমতা এবং আমাদের ব্যক্তিত্বের উপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় রস ক্ষরিত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঠিকভাবে হয় না। শিশুরা ক্রেটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, বৃদ্ধিও স্বাভাবিকভাবে হয় না। এসব শিশুদের বেশিরভাগ হয় মানসিক প্রতিবন্ধী। এ রোগে আক্রান্ত শিশু খর্বাকৃতি, স্ফীতোদর ও ক্ষীণবুদ্ধির হয়।
অপরদিকে পরিণত বয়সে এই হরমোনের কমতি হলে মিক্সেডেমা নামক রোগের আবির্ভাব ঘটে। এ রোগে আক্রান্ত হলে রক্তের চাপ কমে যায়, দেহের বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়, ত্বক শুষ্ক ও কুঞ্চিত হয়ে যায়, চেহারার লাবণ্য কমে যায়, কাজে অলসতা দেখা দেয় এবং উত্তম কমে যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায় কামাল খর্বাকৃতি, স্ফীতোদর ও ক্ষীণবুদ্ধি সম্পন্ন সুতরাং সে ক্রেটিনিজম রোগে আক্রান্ত। অপরদিকে তার মায়ের চেহারায় লাবণ্য কমে গেছে, কাজে অলস্যভাব, ত্বক শুষ্ক ও কুঞ্চিত এবং রক্তচাপ কম সুতরাং কামালের মা মিক্সেডেমা রোগে আক্রান্ত।