উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের গড়ে উঠার কারণসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। উক্ত শিল্প গড়ে ওঠার কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- ১. পর্যাপ্ত কাঁচামাল: আকরিক লোহা উত্তোলনে বিশ্বের প্রথম স্থান অধিকারী দেশ চীনের আকরিক লোহার খনিগুলো হলো-মাঞ্জুরিয়া, আনশান ও পেনসিছু, ইয়াংসি নদীর উপত্যকা, গুয়াংডং, সেচুয়ান প্রদেশের টংকিং এবং শানসি প্রদেশের তাইয়ুয়ান অঞ্চল। ২. পর্যাপ্ত জ্বালানির জোগান: কয়লা লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের মূল জ্বালানি (i) লিয়াওনিং হেইলং জিয়াং, মাঞ্চুরিয়া অঞ্চলের জিলিন, (ii) মধ্য চীনের নিংডু, ডেটং, (iii) পূর্বে হোনান, হেবেই, শ্যানডং, (iv) মধ্য চীনের শানসি ও শানসি, (v) দক্ষিণ চীনের সেচুয়ান প্রভৃতি অঞ্চল থেকে কয়লার জোগানের ওপর লৌহ ও ইস্পাত শিল্প নির্ভর করে। ৩. উত্তম বাজারব্যবস্থা: চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার ১০% এর অধিক। এমতাবস্থায় দেশে বিভিন্ন শিল্পের বিস্তার লাভ করেছে। ফলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারে লৌহপিন্ড ও ইস্পাতের চাহিদা পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি লাভকরেছে। ৪. পরিবহনব্যবস্থা: বিগত চার দশকে দেশে সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। ফলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য সরবরাহব্যবস্থা অনেক বেশি দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। ৫. দক্ষ শ্রমিক: চীনের শ্রমিকরা অন্যান্য দেশের শ্রমিকের চেয়ে অনেক দক্ষ ও পরিশ্রমী। এছাড়া ইউরোপ এবং আমেরিকার শ্রমিকের তুলনায় চীনা শ্রমিকের মজুরির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ৬. পর্যাপ্ত মূলধন: বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। তাই চীনের মূলধন বিনেয়োগের ক্ষমতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সংগতি রেখে গত ৪ দশকে যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চীন লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত কারণে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠে।
HSC Geography 2nd Paper Chapter 6 : শিল্প CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 2nd Paper · Chapter 6 : শিল্প · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের গড়ে উঠার কারণসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
[উৎস: জাতিসংঘ মাসিক পরিসংখ্যান বুলেটিন, ২০১৭]
চীন: চীনের মাঞ্চুরিয়ান আনশান অঞ্চলে লৌহ আকরিক এবং পেনশিহুতে কোক কয়লা পাওয়া যায়। এছাড়া স্থানীয় কয়লা ও আকরিকের ওপর নির্ভর করে ইয়াংসি নদীর তীরে হ্যাষ্ণাও অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
জাপান: জাপান লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনে উন্নত। জাপানের উত্তর কিউশুর ইয়াওয়াটা এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ইস্পাত শিল্পাঞ্চল। এখানকার টোকিও, ইয়োকোহামা, কাওয়াসাকি, চিবা প্রভৃতি অঞ্চলে গড়ে উঠেছে।
ভারত: দক্ষিণ এশিয়ার ভারত লৌহ ও ইস্পাতে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এ দেশের ভিলাই, রাউরকেলা, বার্নপুর, বোকারো, দুর্গাপুর, ভদ্রাবতী, জামসেদপুর ও বার্নপুরে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টপিটার্সবার্গ, শিকাগো-গ্যারী, বার্মিংহাম, ইরি হ্রদ, ডুলুথ, মধ্য আটলান্টিক অঞ্চল, কলোরাডো, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউটা প্রভৃতি রাজ্যে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠেছে।
রাশিয়া: রাশিয়া ইউরাল পর্বত, মস্কো, বৈকাল হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন, গোয়ংজু। বুসান, সিউল প্রভৃতি অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
জার্মানি: জার্মানির বেশিরভাগ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র রাইন অববাহিকায় বুয় অঞ্চলে অবস্থিত। এছাড়া ডর্টমুন্ড, এসেন, ডুইসবার্গ প্রভৃতি অঞ্চলেও দেখা যায়।
সুতরাং বলা যায় উল্লিখিত দেশগুলোতে বেশি পরিমাণ লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠেছে। এছাড়াও ব্রাজিল, তুর্কি, ইতালি, তাইওয়ান, ইউক্রেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, পোল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা মেক্সিকো প্রভৃতি এদেশেও লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

