Chapter 6 : শিল্প Geography 2nd Paper

HSC Geography 2nd Paper এর Chapter 6 : শিল্প অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৩১

প্রশ্ন

Geography 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. এলেক্স যুক্তরাষ্ট্রের হ্রদ অঞ্চলে অবস্থিত একটি ভারী শিল্পের মালিক। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে এদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী একটি কারখানা পরিদর্শন শেষে উক্ত শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Dinajpur · 2017

ক
শিল্পের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

যে কর্মপ্রচেষ্টা দ্বারা মানুষ বিভিন্ন দ্রব্যের উপযোগ বৃদ্ধি করে ব্যবহার উপযোগী করে তাকে শিল্প বলে। যেমন- তাঁত শিল্পে সুতা থেকে বস্ত্র তৈরি হয়।
খ
বাংলাদেশ বর্তমানে ঔষধ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানি করে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাংলাদেশ বর্তমানে ওষুধ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানি করে। ওষুধ শিল্পের এই অগ্রগতির মূলে রয়েছে ১৯৮২ সালে কার্যকর হওয়া জাতীয় ওষুধ নীতি। পরবর্তীতে FDA (US Food and Drugs Administration) কর্তৃক বাংলাদেশের ওষুধের অনুমোদন এ শিল্পের রপ্তানির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এছাড়া উন্নত কাঁচামাল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে উৎপাদন হওয়ায় এদেশের ওষুধ আজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
গ
এলেক্সের মালিকানাধীন শিল্পের গঠনের নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. এ্যালেক্সের মালিকানাধীন শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত। আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে এ শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নিয়ামকের প্রভাব রয়েছে। নিচে এসব নিয়ামকগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- কাঁচামালের সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল লৌহ আকরিক। লৌহ খুব ভারী বলে তা বহন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কারণে আমেরিকায় এ শিল্পগুলো লৌহ খনির নিকটে গড়ে ওঠেছে। কয়লার সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য কয়লা অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে এটি শক্তির প্রধান উৎস। এ কারণে আমেরিকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত কয়লা খনিগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পানির সরবরাহ: আকরিক লৌহ ধৌত ও পরিশোধন এবং কাঁচা লৌহকে ঠাণ্ডা করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই আমেরিকার লৌহ ও ইস্পাত কেন্দ্রগুলো হ্রদ, নদী ও সমুদ্রের তীরে গড়ে উঠেছে। মূলধন: লৌহ ও ইস্পাত শিল্প একটি বৃহদাকার শিল্প বলে এতে প্রচুর পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। ভূমি ক্রয়, অট্টালিকা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকের বাসস্থান, বেতন ইত্যাদি বাবদ প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তি: এটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। এতে সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়ে থাকে। উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার জন্যই আমেরিকা লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। উপরিউক্ত নিয়ামকসমূহের কারণে আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠেছে।
ঘ
এলেক্সের বাংলাদেশে বিনিয়োগের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মি. এ্যালেক্স বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে শিল্প প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করায় দেশে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে। যেমন- এ দেশের পোশাক শিল্পের অনুকূল জলবায়ু, সস্তা ও প্রচুর শ্রমিক, উন্নত কাঁচামাল ও শক্তি সম্পদের প্রাচুর্য প্রভৃতি কারণ মি. এ্যালেক্সকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছে। i. জলবায়ু: বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কারখানায় শ্রমিকদের অধিক সময় কাজ করার বিশেষ উপযোগী। এজন্য এদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। ii. কাঁচামাল: পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র। দেশীয় উন্নতমানের বস্ত্র ব্যবহার করে এদেশে বেশ কিছু তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। iii. শক্তি সম্পদ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শহর কেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে অসুবিধা হয় না। তাই ঢাকা শহরের আশপাশে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে ওঠছে। iv. মূলধন: শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধন অন্যতম পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের অর্থ যোগান দেয়। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাপক বিস্তার হয়েছে। V. শ্রমিক: বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় এখানে সুলভে শ্রমিক পাওয়া যায় এবং স্বল্প মজুরিতে কাজ করানো যায়। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উল্লিখিত নিয়ামকগুলোর কারণেই মি. এ্যালেক্স এদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. এলেক্স যুক্তরাষ্ট্রের হ্রদ অঞ্চলে অবস্থিত একটি ভারী শিল্পের মালিক। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে এদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী একটি কারখানা পরিদর্শন শেষে উক্ত শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Dinajpur · 2017

ক
শিল্পের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

যে কর্মপ্রচেষ্টা দ্বারা মানুষ বিভিন্ন দ্রব্যের উপযোগ বৃদ্ধি করে ব্যবহার উপযোগী করে তাকে শিল্প বলে। যেমন- তাঁত শিল্পে সুতা থেকে বস্ত্র তৈরি হয়।
খ
বাংলাদেশ বর্তমানে ঔষধ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানি করে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাংলাদেশ বর্তমানে ওষুধ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানি করে। ওষুধ শিল্পের এই অগ্রগতির মূলে রয়েছে ১৯৮২ সালে কার্যকর হওয়া জাতীয় ওষুধ নীতি। পরবর্তীতে FDA (US Food and Drugs Administration) কর্তৃক বাংলাদেশের ওষুধের অনুমোদন এ শিল্পের রপ্তানির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এছাড়া উন্নত কাঁচামাল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে উৎপাদন হওয়ায় এদেশের ওষুধ আজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
গ
এলেক্সের মালিকানাধীন শিল্পের গঠনের নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. এ্যালেক্সের মালিকানাধীন শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত। আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে এ শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নিয়ামকের প্রভাব রয়েছে। নিচে এসব নিয়ামকগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- কাঁচামালের সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল লৌহ আকরিক। লৌহ খুব ভারী বলে তা বহন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কারণে আমেরিকায় এ শিল্পগুলো লৌহ খনির নিকটে গড়ে ওঠেছে। কয়লার সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য কয়লা অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে এটি শক্তির প্রধান উৎস। এ কারণে আমেরিকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত কয়লা খনিগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পানির সরবরাহ: আকরিক লৌহ ধৌত ও পরিশোধন এবং কাঁচা লৌহকে ঠাণ্ডা করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই আমেরিকার লৌহ ও ইস্পাত কেন্দ্রগুলো হ্রদ, নদী ও সমুদ্রের তীরে গড়ে উঠেছে। মূলধন: লৌহ ও ইস্পাত শিল্প একটি বৃহদাকার শিল্প বলে এতে প্রচুর পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। ভূমি ক্রয়, অট্টালিকা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকের বাসস্থান, বেতন ইত্যাদি বাবদ প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তি: এটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। এতে সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়ে থাকে। উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার জন্যই আমেরিকা লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। উপরিউক্ত নিয়ামকসমূহের কারণে আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠেছে।
ঘ
এলেক্সের বাংলাদেশে বিনিয়োগের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মি. এ্যালেক্স বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে শিল্প প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করায় দেশে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে। যেমন- এ দেশের পোশাক শিল্পের অনুকূল জলবায়ু, সস্তা ও প্রচুর শ্রমিক, উন্নত কাঁচামাল ও শক্তি সম্পদের প্রাচুর্য প্রভৃতি কারণ মি. এ্যালেক্সকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছে। i. জলবায়ু: বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কারখানায় শ্রমিকদের অধিক সময় কাজ করার বিশেষ উপযোগী। এজন্য এদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। ii. কাঁচামাল: পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র। দেশীয় উন্নতমানের বস্ত্র ব্যবহার করে এদেশে বেশ কিছু তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। iii. শক্তি সম্পদ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শহর কেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে অসুবিধা হয় না। তাই ঢাকা শহরের আশপাশে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে ওঠছে। iv. মূলধন: শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধন অন্যতম পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের অর্থ যোগান দেয়। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাপক বিস্তার হয়েছে। V. শ্রমিক: বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় এখানে সুলভে শ্রমিক পাওয়া যায় এবং স্বল্প মজুরিতে কাজ করানো যায়। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উল্লিখিত নিয়ামকগুলোর কারণেই মি. এ্যালেক্স এদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হাজেরা সাভারের একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার নারী শ্রমিকের সাথে কাজ করে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ ধরনের শিল্পকারখানা দেশে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ফলে দেশের নারী শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটছে।

Rajshahi · 2018

ক
কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কী?

উত্তর

কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো তুলা।
খ
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে চিনি শিল্প গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ইক্ষু যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অতি প্রাচীনকাল হতেই বাংলাদেশে ইক্ষুর চাষ হয়। আর বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ হলো ইক্ষু চাষের আদিভূমি। তাই কাঁচামালের পর্যাপ্ততার জন্য উত্তরবঙ্গে অধিক পরিমাণে চিনি শিল্প গড়ে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকাশের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে পোশাক শিল্পের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্পের তুলনায় তৈরি পোশাক শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভের কারণ হলো কাঁচামালের প্রাচুর্যতা, শক্তিসম্পদের সরবরাহ, সস্তা শ্রমিক, আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদা অন্যতম। উদ্দীপকের হাজেরা সাভারের একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে। বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্প পিছিয়ে পড়লেও তৈরি পোশাক শিল্পে সস্তা শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদাসহ অন্যান্য কারণে স্বল্পতম সময়ে বেশ উন্নতি লাভ করেছে। পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে বস্তু কল রয়েছে। সেখান থেকে বস্ত্র সরবরাহ দিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রয়োজনে বস্ত্র আমদানিও করা যায়। এ শিল্পের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিশেষ উপযোগী। শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আবহাওয়া বলে শ্রমিকরা অধিক সময় কাজ করতে পারে। জনবহুল এদেশে প্রচুর সস্তা শ্রমিক রয়েছে, বিশেষ করে মহিলা শ্রমিক। তাছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্পের তুলনায় তৈরি পোশাক শিল্প স্বল্প সময়ে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ শিল্পটির বাংলাদেশে সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো পোশাক শিল্প। অনুকূল জলবায়ু, আন্তর্জাতিক চাহিদা, সস্তা শ্রমিক প্রভৃতির কারণে এদেশে প্রচুর পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ শিল্পে কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে যা নিচে আলোচনা করা হলো- বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এখনো অনেকটা দুর্বল। তাই পোশাক শিল্পে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে এ শিল্পের বিকাশে অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি না দিয়ে অনেক পোশাক শিল্প মালিক তাদের নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়। ফলে শ্রমিকরা অবহেলিত থেকে যায় যা তাদের কর্মস্পৃহা কমায়। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় কর্ম পরিবেশ না থাকায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে এ শিল্পের শ্রমিকরা তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে সক্ষম হচ্ছে না। নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দেওয়ার প্রবণতা এ শিল্পের অন্যতম সমস্যা। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, অশিক্ষা, সরকারি নীতিমালার অভাব, নারীর অবমূল্যায়ন প্রভৃতি পোশাক শিল্পের বিকাশের অন্যতম অন্তরায়। উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এ অনুপাতে কর্মসংস্থানের স্বল্পতা বিদ্যমান। তবে পোশাক শিল্পে দেশের জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ নিয়োজিত রয়েছে। যে সমস্ত লোকজন এ শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে তাদের আর্থসামাজিক উন্নতি সাধিত হচ্ছে। বাংলাদেশে শ্রম সস্তা বলে উৎপাদিত পোশাকে খরচ কম হয় এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় কম মূল্যে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে এর পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। এ খাতে এখন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও। কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এই পোশাক শিল্পের মাধ্যমে হয়েছে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হাজেরা সাভারের একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার নারী শ্রমিকের সাথে কাজ করে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ ধরনের শিল্পকারখানা দেশে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ফলে দেশের নারী শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটছে।

Rajshahi · 2018

ক
কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কী?

উত্তর

কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো তুলা।
খ
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে চিনি শিল্প গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ইক্ষু যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অতি প্রাচীনকাল হতেই বাংলাদেশে ইক্ষুর চাষ হয়। আর বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ হলো ইক্ষু চাষের আদিভূমি। তাই কাঁচামালের পর্যাপ্ততার জন্য উত্তরবঙ্গে অধিক পরিমাণে চিনি শিল্প গড়ে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকাশের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে পোশাক শিল্পের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্পের তুলনায় তৈরি পোশাক শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভের কারণ হলো কাঁচামালের প্রাচুর্যতা, শক্তিসম্পদের সরবরাহ, সস্তা শ্রমিক, আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদা অন্যতম। উদ্দীপকের হাজেরা সাভারের একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে। বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্প পিছিয়ে পড়লেও তৈরি পোশাক শিল্পে সস্তা শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদাসহ অন্যান্য কারণে স্বল্পতম সময়ে বেশ উন্নতি লাভ করেছে। পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে বস্তু কল রয়েছে। সেখান থেকে বস্ত্র সরবরাহ দিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রয়োজনে বস্ত্র আমদানিও করা যায়। এ শিল্পের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিশেষ উপযোগী। শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আবহাওয়া বলে শ্রমিকরা অধিক সময় কাজ করতে পারে। জনবহুল এদেশে প্রচুর সস্তা শ্রমিক রয়েছে, বিশেষ করে মহিলা শ্রমিক। তাছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশে অন্যান্য শিল্পের তুলনায় তৈরি পোশাক শিল্প স্বল্প সময়ে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ শিল্পটির বাংলাদেশে সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো পোশাক শিল্প। অনুকূল জলবায়ু, আন্তর্জাতিক চাহিদা, সস্তা শ্রমিক প্রভৃতির কারণে এদেশে প্রচুর পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ শিল্পে কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে যা নিচে আলোচনা করা হলো- বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এখনো অনেকটা দুর্বল। তাই পোশাক শিল্পে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে এ শিল্পের বিকাশে অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি না দিয়ে অনেক পোশাক শিল্প মালিক তাদের নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়। ফলে শ্রমিকরা অবহেলিত থেকে যায় যা তাদের কর্মস্পৃহা কমায়। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় কর্ম পরিবেশ না থাকায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে এ শিল্পের শ্রমিকরা তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে সক্ষম হচ্ছে না। নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দেওয়ার প্রবণতা এ শিল্পের অন্যতম সমস্যা। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, অশিক্ষা, সরকারি নীতিমালার অভাব, নারীর অবমূল্যায়ন প্রভৃতি পোশাক শিল্পের বিকাশের অন্যতম অন্তরায়। উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এ অনুপাতে কর্মসংস্থানের স্বল্পতা বিদ্যমান। তবে পোশাক শিল্পে দেশের জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ নিয়োজিত রয়েছে। যে সমস্ত লোকজন এ শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে তাদের আর্থসামাজিক উন্নতি সাধিত হচ্ছে। বাংলাদেশে শ্রম সস্তা বলে উৎপাদিত পোশাকে খরচ কম হয় এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় কম মূল্যে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে এর পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। এ খাতে এখন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও। কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এই পোশাক শিল্পের মাধ্যমে হয়েছে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশের প্রচুর চাহিদাপূর্ণ একটি শিল্পের মোট ১৮টি কারখানার ১০টিই উত্তরবঙ্গে অবস্থিত। শিল্প এলাকা হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিভাগে উক্ত শিল্পের কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি।

Dhaka · 2018

ক
বিশ্বের প্রধান লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী দেশ কোনটি?

উত্তর

বিশ্বের প্রধান লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন।
খ
ছাতক সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের উৎস কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে। সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, জয়পুরহাট এবং চট্টগ্রাম জেলায় চুনাপাথরের খনি পাওয়া গেছে। বর্তমানে কয়েকটি স্থান থেকে চুনাপাথর উত্তোলনও করা হয়। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। তাই সিমেন্ট কারখানাগুলোর চাহিদা মেটাতে কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিনি শিল্পের কথা বলা হয়েছে। এ শিল্পটি উত্তরবঙ্গে বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 'স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশে চিনি শিল্পের সংখ্যা কম থাকলেও। বর্তমানে বাংলাদেশে চিনিকল প্রায় ১৮টি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ চিনির কল রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে গড়ে উঠেছে। কারণ দেশের মোট উৎপাদিত আখের অধিকাংশই এই দুই বিভাগে জন্মে থাকে। মূলত প্রাকৃতিক তথা ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণেই এ অঞ্চলে চিনিকলগুলো গড়ে উঠেছে। দেশের ১৮টি চিনিকলের মধ্যে ১০টি চিনিকল উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর ও রাজশাহী বিভাগেই গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকায় আখের ফলন ভালো হয় বলে দ্রুত এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের উৎপাদিত আখের রসের পরিমাণও অধিক। পাকিস্তানের কারিগরি ও ঋণ সহায়তায় ১,৫০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন চিনির একটি কল পাবনার দাসুরিয়ায় নির্মিত হয়েছে। এখানে ১৯৯৬ সাল হতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ দুই বিভাগের চিনিকলগুলো ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, জয়পুরহাট, হরিয়ানা ও নাটোরে অবস্থিত। পর্যাপ্ত কাঁচামাল, অনুকূল জলবায়ু, দক্ষ শ্রমিক, মূলধন প্রভৃতি কারণে এ অঞ্চলে চিনিকল গড়ে উঠেছে। সুতরাং বলা যায় যে, অনুকূল প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশে চিনিশিল্পগুলো উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ঘ
বাংলাদেশের উল্লিখিত শিল্পের সমস্যা ও সমাধানের উপায়সমূহ বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিনি শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল হলেও বেশ কতকগুলো সমস্যা এর প্রসারে বাধার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে চিনিকলগুলোর চাহিদার তুলনায় আখের উৎপাদন অনেক কম। অনুর্বর মৃত্তিকা, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব, পোকার আক্রমণ প্রভৃতি কারণে। আখের উৎপাদন কম হয়ে থাকে। আবার, মৌসুমে দূরবর্তী এলাকা থেকে কারখানায় আখ নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় চিনি উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। কারণ আখ কেটে রেখে দিলে অথবা সময়মতো না কাটলে রস কমে যায়। চিনিকলগুলোতে আখের জন্য কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পায় না বলে গুড় তৈরিতে আগ্রহী হয়ে থাকে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে এক সময় চিনি শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। উক্ত সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ: • বাংলাদেশে আখের উৎপাদন যথাসম্ভব বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য ক্ষতিকারক পোকা দমনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। • পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে যাতে আখ সহজেই উৎপাদন স্থানে সময়মতো পৌঁছায়। • কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষণসহ আখের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন, ঋণদান, ইক্ষু গবেষণা বিনিয়োগকারীদের এ শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে চিনির উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশের প্রচুর চাহিদাপূর্ণ একটি শিল্পের মোট ১৮টি কারখানার ১০টিই উত্তরবঙ্গে অবস্থিত। শিল্প এলাকা হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিভাগে উক্ত শিল্পের কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি।

Dhaka · 2018

ক
বিশ্বের প্রধান লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী দেশ কোনটি?

উত্তর

বিশ্বের প্রধান লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন।
খ
ছাতক সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের উৎস কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে। সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, জয়পুরহাট এবং চট্টগ্রাম জেলায় চুনাপাথরের খনি পাওয়া গেছে। বর্তমানে কয়েকটি স্থান থেকে চুনাপাথর উত্তোলনও করা হয়। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। তাই সিমেন্ট কারখানাগুলোর চাহিদা মেটাতে কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিনি শিল্পের কথা বলা হয়েছে। এ শিল্পটি উত্তরবঙ্গে বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 'স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশে চিনি শিল্পের সংখ্যা কম থাকলেও। বর্তমানে বাংলাদেশে চিনিকল প্রায় ১৮টি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ চিনির কল রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে গড়ে উঠেছে। কারণ দেশের মোট উৎপাদিত আখের অধিকাংশই এই দুই বিভাগে জন্মে থাকে। মূলত প্রাকৃতিক তথা ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণেই এ অঞ্চলে চিনিকলগুলো গড়ে উঠেছে। দেশের ১৮টি চিনিকলের মধ্যে ১০টি চিনিকল উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর ও রাজশাহী বিভাগেই গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকায় আখের ফলন ভালো হয় বলে দ্রুত এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের উৎপাদিত আখের রসের পরিমাণও অধিক। পাকিস্তানের কারিগরি ও ঋণ সহায়তায় ১,৫০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন চিনির একটি কল পাবনার দাসুরিয়ায় নির্মিত হয়েছে। এখানে ১৯৯৬ সাল হতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ দুই বিভাগের চিনিকলগুলো ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, জয়পুরহাট, হরিয়ানা ও নাটোরে অবস্থিত। পর্যাপ্ত কাঁচামাল, অনুকূল জলবায়ু, দক্ষ শ্রমিক, মূলধন প্রভৃতি কারণে এ অঞ্চলে চিনিকল গড়ে উঠেছে। সুতরাং বলা যায় যে, অনুকূল প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশে চিনিশিল্পগুলো উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ঘ
বাংলাদেশের উল্লিখিত শিল্পের সমস্যা ও সমাধানের উপায়সমূহ বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিনি শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল হলেও বেশ কতকগুলো সমস্যা এর প্রসারে বাধার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে চিনিকলগুলোর চাহিদার তুলনায় আখের উৎপাদন অনেক কম। অনুর্বর মৃত্তিকা, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব, পোকার আক্রমণ প্রভৃতি কারণে। আখের উৎপাদন কম হয়ে থাকে। আবার, মৌসুমে দূরবর্তী এলাকা থেকে কারখানায় আখ নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় চিনি উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। কারণ আখ কেটে রেখে দিলে অথবা সময়মতো না কাটলে রস কমে যায়। চিনিকলগুলোতে আখের জন্য কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পায় না বলে গুড় তৈরিতে আগ্রহী হয়ে থাকে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে এক সময় চিনি শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। উক্ত সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ: • বাংলাদেশে আখের উৎপাদন যথাসম্ভব বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য ক্ষতিকারক পোকা দমনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। • পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে যাতে আখ সহজেই উৎপাদন স্থানে সময়মতো পৌঁছায়। • কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষণসহ আখের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন, ঋণদান, ইক্ষু গবেষণা বিনিয়োগকারীদের এ শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে চিনির উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো