উদ্দীপকে উল্লিখিত তৃতীয় দেশটি হলো জাপান। জাপানের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের একটি পরিসংখ্যান ২০২২ সাল অনুযায়ী দেয়া হয়েছে তা হলো লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদন ৯৬.৩৩ মে.টন, রপ্তানি ৩১.৭ মে.টন। জাপানের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য যে কাঁচামাল অর্থাৎ লৌহ আকরিক প্রয়োজন তা নিজ দেশে নেই। এই খনিজটি বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে এটি বতিক্রম। কেননা লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের মূল কাঁচামাল আমদানি করেও এদেশ এ শিল্পে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। শুধু সমৃদ্ধি নয়, লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে জাপান বিশ্বে ২য় স্থানে রয়েছে। যদিও কাঁচামাল আমদানি করেছে কিন্তু এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুকূলে থাকায় সমুদ্রপথে সহজে কাঁচামাল স্বল্প খরচে আনতে পারে। অন্যদিকে জাপানে দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক, শিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক বাজার, উৎকৃষ্ট পরিবহন ব্যবস্থা, উৎকৃষ্ট বন্দর, জাহাজ নির্মাণ শিল্পায়নের পশ্চাতে রয়েছে বলে এদেশ এ শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে। প্রয়োজনীয় লোহার শতকরা ১৫ ভাগ মাত্র দেশের অভ্যন্তরে পাওয়া যায়।
সুতরাং বলা যায় যে, কাঁচামালের অভাব থাকা সত্ত্বেও জাপানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নতি ও জাপানি শ্রমিকের দক্ষতা এত বেশি যে, জাপানে উৎপাদিত লৌহপিন্ড ও ইস্পাতের গুণমান বেশি এবং উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম এবং আমদানিকৃত শক্তিসম্পদের নিকটবর্তী দেশ হওয়ায় পরিবহন খরচ কম হওয়ার ফলে এ দেশে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে পৃথিবীর দ্বিতীয় যা ব্যতিক্রম।