উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। উক্ত শিল্পটির জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হলো-
জাপান একটি শিল্পোন্নত দেশ। এদেশে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্ববাজারে যেকোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, মেশিন, টুলস, টেক্সটাইল প্রভৃতি শিল্প জাপানের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত যার মূল অংশগুলো আসে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প থেকে। একারণে এই শিল্পের ওপর ভিত্তি করে বড় বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, মোটরগাড়ি শিল্প গড়ে উঠেছে। লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে জাপান দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষ, সুলভ শ্রমিক, শিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক বাজার, উৎকৃষ্ট পরিবহন ব্যবস্থা, উৎকৃষ্ট বন্দর প্রভৃতি কারণে এ শিল্প গড়ে উঠেছে। জাপানের লৌহ ও ইস্পাত শিল্প হতে ১৪৭.৭মিলিয়ন মে.টন ইস্পাত এবং ৬৭.৭৯ মিলিয়ন মে.টন লৌহপিণ্ড উৎপাদন করা হয়। এ শিল্পগুলো টোকিও-ইয়োকোহামা, ওসাকা প্রভৃতি অঞ্চলে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের চতুর্থ লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৭ সালের হিসাবে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ৮১.৬ মিলিয়ন মে.টন ইস্পাত এবং ২৯.৪৫ মিলিয়ন মে.টন লৌহপিন্ড উৎপাদন করে। লৌহ আকরিক ও কয়লার পর্যাপ্ত সম্ভার, হ্রদ অঞ্চলের সুলভ পানিপথ ও দেশব্যাপী রেলপথের সুবন্দোবস্ত থাকায় এ দেশে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এ শিল্প গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গ, শিকাগো গ্যারী, ক্যালিফোর্নিয়া, বার্মিংহাম অঞ্চল, ইরি হ্রদ অঞ্চল, ডলুথ অঞ্চল, মধ্য আটলান্টিক অঞ্চল কলোরাডো, ইউটা প্রভৃতি রাজ্যে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উল্লেখযোগ্য। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ২৫ ভাগ লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদন করা হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত দুটি দেশই লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে সমৃদ্ধ। এ শিল্প গড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় নিয়ামকসমূহের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে সমৃদ্ধি লাভকরেছে।