উদ্দীপকে চিনি শিল্পের কথা বলা হয়েছে। এ শিল্পটি উত্তরবঙ্গে বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
'স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশে চিনি শিল্পের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে চিনিকল প্রায় ১৮টি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ চিনির কল রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে গড়ে উঠেছে। কারণ দেশের মোট উৎপাদিত আখের অধিকাংশই এই দুই বিভাগে জন্মে থাকে। মূলত প্রাকৃতিক তথা ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণেই এ অঞ্চলে চিনিকলগুলো গড়ে উঠেছে।
দেশের ১৮টি চিনিকলের মধ্যে ১০টি চিনিকল উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর ও রাজশাহী বিভাগেই গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকায় আখের ফলন ভালো হয় বলে দ্রুত। এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের উৎপাদিত আখের রসের পরিমাণও অধিক। পাকিস্তানের কারিগরি ও ঋণ সহায়তায় ১,৫০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন চিনির একটি কল পাবনার দাসুরিয়ায় নির্মিত হয়েছে। এখানে ১৯৯৬ সাল হতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ দুই বিভাগের চিনিকলগুলো ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, জয়পুরহাট, হরিয়ানা ও নাটোরে অবস্থিত।
এছাড়া বাংলাদেশের চিনি শিল্পের জন্য দক্ষ শ্রমিকের সরবরাহ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকায় উপরিউক্ত শিল্প তথা চিনি শিল্পটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গসহ বেশ কিছু অঞ্চলে গড়ে উঠেছে।