উদ্দীপকের শিল্প হলো পোশাক শিল্প। উক্ত শিল্পে নারী কর্মীদের ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-
স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বত্র কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি এক নবজাগরণের সূচনা করেছে। দেশের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান অপরিহার্য। ঘর সংসার ও সন্তানের লালন-পালন ছাড়াও স্বল্প শিক্ষিত নারীরা আজ ঘরে বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম দিচ্ছে। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। কিশোরী থেকে তিরিশোর্ধ্ব পর্যন্ত নারীদের এখানে নিয়োগ দেয়া হয়। এই বিকাশমান শিল্পে নারী শ্রমিকরা ছুটি পায় রাত ৮টার পর। গার্মেন্টস মালিকরা বলে থাকেন, নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে মনোযোগী এবং কাজেও ভালো। পারিশ্রমিকও কম দিয়ে কাজ করানো যায়। তাই সব দিক দিয়ে নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো সুবিধাজনক। আর এজন্যই গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অবদান অস্বীকার্য। এদের শতকরা ৮৫ জনই মহিলা। বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে কম মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার কারণে অন্য দেশের চেয়ে এদেশের পোশাকের উৎপাদন খরচ কম হয়। যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা সহজেই কম মূল্যে এদেশের পোশাক ক্রয় করে থাকেন। এর মূল নেপথ্যে আছে দরিদ্র অশিক্ষিত বা অর্ধাশিক্ষিত নারীদের এ শিল্পে সম্পৃক্ত থাকা। তারা আছে বলেই কম মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারে এবং পোশাক উৎপাদন খরচ অনেক কম হয় যা অন্য দেশে সম্ভব হয় না। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০% আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। যার অগ্রভাগে রয়েছে এ শিল্পে সম্পৃক্ত থাকা নারীরা। তাই বলতে পারি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।