কোনো দেশের শিল্পায়নের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
নিচে শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ: কোনো শিল্পের প্রসারের জন্য তার প্রধান লক্ষ্যসমূহ আগেই ঠিক করে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী শ্রমিক, মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে।
কম খরচে অধিক পণ্য উৎপাদন: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আরেকটি অতি প্রয়োজনীয় দিক হলো স্বল্প খরচে অধিক পণ্য উৎপাদন ও মুনাফা অর্জনের ব্যবস্থা গ্রহণ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক যেমন- পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ফলে কম খরচে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব।
সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানবিক উভয় সম্পদের ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, কাঁচবালি ইত্যাদির আহরণ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া সহজলভ্য উপাদানের সঠিক ব্যবহার ও ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ নির্ধারণ: শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রসার অনেকাংশে নির্ভর করে শ্রমিকের কর্মদক্ষতার ওপর। সেক্ষেত্রে অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ জনশক্তি নির্বাচন করতে হবে। এর ফলে পণ্যের গুণগত মান উন্নত হবে এবং বিশ্বব্যাপী বাজার বৃদ্ধি পাবে।
শিল্পের ভারসাম্য স্থাপন: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন পরিবর্তনশীল অবস্থার সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যার ফলে শিল্পের বাজার বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। এ অবস্থায় কীভাবে শিল্পকারখানা সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় তা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায়।
সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন: শিল্পের উন্নয়ন হলে সেই সাথে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এছাড়াও ভালো মানের পণ্য ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি করে ও উন্নত জীবনযাত্রার দিকে ধাবিত করে। শিল্পের উন্নয়নের সাথে সাথে সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটে।