উদ্দীপকে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কথা বলা হয়েছে। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে উন্নত দেশগুলো পৃথিবীতে উন্নত দেশরূপে পরিগণিত। শিল্পটির উৎপাদন ও বণ্টন দেখলে আমরা দেখি শিল্পটি উন্নত দেশগুলোতেই কেন্দ্রীভূত।
১. চীন: চীন বর্তমানে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। আনশান চীনের সর্ববৃহৎ ইস্পাত কেন্দ্র। এছাড়া সাংহাই, নানকিং, উহান প্রভৃতি রাজ্যও ইস্পাত শিল্পে উন্নত। ইয়াংসি নদীর তীরে হ্যাঞ্চাও এবং লায়োনিং এর আনশান অঞ্চলে চীনের অধিকাংশ লৌহ ও ইস্পাত কারখানাগুলো অবস্থিত।
২. জাপান: জাপান বর্তমানে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে যথাক্রমে ২য় ও ৩য় অবস্থানে রয়েছে। জাপানের প্রধান প্রধান লৌহ-ইস্পাত উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো হলো- ওসাকা-কোবে অঞ্চল, টোকিও ইয়োকোহামা অঞ্চল, হোক্কাইডো-মুরোরান অঞ্চল।
৩. ভারত: ভারত লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে যথাক্রমে তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দেশ। বিহারের সিংভূম, উড়িষ্যার কেওনঝাড়, প্রভৃতি অঞ্চলে আকরিক লৌহ এবং বিহারের ঝরিয়া ও বোকারা ইত্যাদি অঞ্চলে কয়লার আধিক্য থাকায় লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশটির বিহারের সিংভূম জেলার জামশেদপুরে বৃহত্তম লৌহ ও ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠেছে।
৪. রাশিয়া: রাশিয়া বর্তমান বিশ্বে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার ইউরাল অঞ্চলের ম্যাগনিটোগরস্ক রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয়- বৃহত্তম লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী কারখানা।
৫. যুক্তরাষ্ট্র: দেশটি ইস্পাত উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ এবং লৌহ উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। দেশটির পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর, স্প্যারোজ পয়েন্ট; পিটার্সবার্গের ইয়াংস্টাউন অঞ্চল; বৃহৎ পঞ্চ হ্রদ অঞ্চলের শিকাগো, গ্যারি, ব্যাফেলো, ক্লিভল্যান্ড, লোরেন, ইরি হ্রদের পশ্চিমে ডেট্রয়েট ইত্যাদি অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
উপরিউক্ত দেশগুলো ছাড়াও লৌহ শিল্পে জার্মানি তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য এবং ইস্পাত শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, তুরস্ক, ইরান প্রভৃতি দেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে।