মানচিত্রে চিহ্নিত দেশ দুটি হলো বাংলাদেশ ও ভারত। উক্ত দেশ দুটির শিল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ ও ভারত বস্ত্র শিল্পে বেশ প্রসিদ্ধ। ভারত এ শিল্পে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারতের বস্ত্রকলগুলো মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাডুতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের বস্ত্রকলগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে কেন্দ্রীভূত।
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে লৌহ আকরিক শিল্প পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চিত আছে এবং উত্তোলন হচ্ছে বিধায় এদেশের ভিলাউ, রাউরকেলা, দুর্গাপুর, ভদ্রাবতী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং জমসেদপুর ও বার্নপুরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ পাট শিল্পে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকায় পাটকল অবস্থিত। পাট উৎপাদনে বিশ্বে ভারত প্রথম এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও মাদ্রাজ রেশম শিল্পে প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর ও বগুড়াতে এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। ভারত, বাংলাদেশ চিনি শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। ভারতে চিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প। ভারতে ৩১৮টি এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৮টি চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতে মোট ৭০০টি কাগজ কল আছে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ৮টি কাগজ ও বোর্ড শিল্প গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ও মাঝারি আকারের ১২৩টি 'সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। ভারতে ১০টি বৃহৎ সিমেন্ট প্লান্ট ও প্রায় ৩০০টি ক্ষুদ্র সিমেন্ট প্লান্ট আছে। সিমেন্ট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে বাংলাদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন সমৃদ্ধ না হলেও দেশের কয়েকটি স্থানে চুনাপাথর আবিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে এ শিল্পে কিছুটা উন্নতি লাভ করেছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং ভারতের পোশাক শিল্প দুটিই বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় দুটি দেশেই এ শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরিউক্ত আলোচনা হতে বাংলাদেশ ও ভারতে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুটি দেশের শিল্পগুলোর মধ্যে কোনোটি কম কোনোটি বেশি গড়ে উঠেছে। ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের কারণে এক এক দেশে এক এক ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।