উদ্দীপকে উল্লিখিত ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী স্তরটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার। এটি ভূপৃষ্ঠের সাথে লেগে আছে। জীবের বেঁচে থাকার জন্য ট্রপোস্ফিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন এ স্তরেই জীবের বিশেষ করে মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উত্তাপ ও অক্সিজেন এবং অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদানের অনুপাত আদর্শস্থানীয়। এছাড়া এ স্তরে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপসর্গগুলো এ স্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ স্তরে যেসব গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে তন্মধ্যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মানুষসহ সকল প্রাণীর জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। অক্সিজেন ছাড়া মানুষ এক মিনিটের জন্যও বেঁচে থাকতে পারে না। অন্যদিকে উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরি এবং বেঁচে থাকার জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে থাকে। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসীয় পদার্থসমূহ এই ট্রপোমণ্ডলের স্তরেই পেতে পারি। এছাড়া সূর্য থেকে আলোকশক্তি এসে এখানকার অন্যান্য গ্যাসীয় পদার্থের সাথে মিশে খাদ্য উৎপাদন এবং প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সম্পাদন প্রভৃতি কার্য এই স্তরেই করে থাকে। অন্যদিকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের মিলনে পানি উৎপন্ন হয়; যা এই স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভূপৃষ্ঠ থেকে উত্থিত জলীয় বাষ্প যা এই স্তরের বায়ুমণ্ডলেই গিয়ে শীতল হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। উক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে ফসলাদি, জীবজন্তুর খাবার, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণিজগতের নানাবিধ উপকার করে থাকে।
সুতরাং বলা যায় যে, বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরটি মানুষসহ জীবজন্তু, বৃক্ষলতাদি সবকিছুর বেঁচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।