HSCGeography 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
পৃথিবী একটি অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চতা ও উপাদানের পার্থক্যের কারণে তা কতকগুলো স্তরে বিভক্ত। যার একটি জীবকুলের আবাসস্থল আবার অন্য একটি স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবকুলের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
Rajshahi · 2017
ক
জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
উত্তর
পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার জীবের বৈচিত্র্যময় জীবন ব্যবস্থাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।
খ
জীববৈচিত্র্যের স্থানিক ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
জীববৈচিত্র্যের স্থানিক ভিন্নতা বলতে স্থানভেদে জীবের (প্রাণী ও উদ্ভিদ) প্রজাতিগত ভিন্নতাকে বুঝায়। এর কারণ মূলত দুটি; যথা-১. পরিবেশগত ও ২. বংশগত। বিভিন্ন স্থানে জলবায়ুর তারতম্যে যে পরিবেশগত ভিন্নতা তা অঞ্চলভেদে নির্দিষ্ট প্রজাতির অভিযোজন ঘটায়। যেমন- সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আবার বংশগতির কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতিগত বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু তা এ নির্দিষ্ট স্থানেই অভিযোজিত হয়। যেমন- বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের ধান। এভাবে জীববৈচিত্র্যের স্থানিক ভিন্নতা দেখা যায়।
গ
উদ্দীপকে বায়বীয় আবরণের স্তরবিন্যাস চিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে পৃথিবী একটি অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ দ্বারা পরিবেষ্টিত যা বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত। তাপের তারতম্য অনুসারে বায়ুমন্ডকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। স্তরগুলো হলো ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার। নিচে বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস চিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো:
তাপের তারতম্য অনুসারে বায়মন্ডল কতিপয় স্তরে বিভক্ত। কোনো স্তরে তাপমাত্রা বেশি আবার কোনো স্তরে আবার কম। কোন স্তরে প্রাথমিক অবস্থায় তাপমাত্রা স্থির থাকলেও উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কি.মি উপর পর্যন্ত এর বিস্তার ধরা হয়। ট্রপোপজের উপর হতে উর্ধ্বে ৬২ কি.মি. পর্যন্ত স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের বিস্তার। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপ হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায়। এ বায়ুস্তরের উর্ধ্বসীমাকে ওজোনোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ার এ বিভক্ত করা যায়। ভূপৃষ্ঠের ৮০ কি.মি. উর্ধ্ব হতে ৬৪০ কি.মি. পর্যন্ত থার্মোস্ফিয়ার স্তরের বিস্তার। এ স্তরের তাপ খুবই বেশি। বায়ুমন্ডলের এক্সোস্ফিয়ার স্তরটি ভূপৃষ্ঠের ৬৪০ কি.মি. এর উর্ধ্বে অবস্থান করে। এখানে বায়ু এত হালকা যে তার অস্তিত্ব প্রায় বুঝাই যায় না। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার চৌম্বকীয় স্তরটি বায়ুমন্ডলের সর্বশেষ স্তর। এখানে বায়ুমন্ডলের চার্জিত কনার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
তাপের তারতম্য অনুসারে বায়মন্ডল কতিপয় স্তরে বিভক্ত। কোনো স্তরে তাপমাত্রা বেশি আবার কোনো স্তরে আবার কম। কোন স্তরে প্রাথমিক অবস্থায় তাপমাত্রা স্থির থাকলেও উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কি.মি উপর পর্যন্ত এর বিস্তার ধরা হয়। ট্রপোপজের উপর হতে উর্ধ্বে ৬২ কি.মি. পর্যন্ত স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের বিস্তার। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপ হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায়। এ বায়ুস্তরের উর্ধ্বসীমাকে ওজোনোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ার এ বিভক্ত করা যায়। ভূপৃষ্ঠের ৮০ কি.মি. উর্ধ্ব হতে ৬৪০ কি.মি. পর্যন্ত থার্মোস্ফিয়ার স্তরের বিস্তার। এ স্তরের তাপ খুবই বেশি। বায়ুমন্ডলের এক্সোস্ফিয়ার স্তরটি ভূপৃষ্ঠের ৬৪০ কি.মি. এর উর্ধ্বে অবস্থান করে। এখানে বায়ু এত হালকা যে তার অস্তিত্ব প্রায় বুঝাই যায় না। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার চৌম্বকীয় স্তরটি বায়ুমন্ডলের সর্বশেষ স্তর। এখানে বায়ুমন্ডলের চার্জিত কনার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়।ঘ
উদ্দীপকের শেষের স্তরটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের শেষের স্তর বলতে ওজোনোস্ফিয়ার স্তরটিকে বুঝানো হয়েছে। এ স্তরটি সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবকূলের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ার বায়ুস্তরের উর্ধ্বসীমাকে ওজোনোস্ফিয়ার বলা হয়। ওজোন গ্যাসের এ স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্বে প্রায় ২০ হতে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দেখা যায়। নিচে ওজোনোস্ফিয়ার স্তরটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
ওজোন স্তরটির প্রভাবে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কারণ, এ স্তর না থাকলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির দহনে প্রাণীর দেহ পুড়ে যেত এবং সমস্ত প্রাণীকূল অন্ধ হয়ে যেত। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এখানে তাপ ৭৬° সে. পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই ওজোন স্তরের কোনো ক্ষতি হলে বা এটি ফুটো হলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ভূপৃষ্ঠে চলে আসবে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রাণীজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এটি নিশ্চিত যে, ওজোন স্তরের ক্ষতিই তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ওজোনস্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবকূলের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো