উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ হলো বায়ু দূষণ। উক্ত বায়ু দূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
সময়ের বহুল আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে বায়ু দূষণ যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপকহারে বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ২০১৯, বৈশ্বিক বায়ু দূষণের ঝুঁকিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০১২ সালে বায়ু দূষণ সারা বিশ্বে ৭ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে। চলতি বছরে বায়ু দূষণের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণে অর্থনীতিতে 'বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্যিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রগুলোতে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৯১ ভাগ মানুষ নির্মল বায়ু সেবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৩৩ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হলো বায়ু দূষণ। এসবের মাঝে ৭৫ শতাংশরই মৃত্যু ঘটে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক থেকে, বাকি ৭৫ শতাংশ হয় ফুসফুসের রোগে। শুধু তাই নয়, এত মৃত্যুর ৭৫ শতাংশ ঘটে এশিয়া মহাদেশে, যেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা ভয়াবহ বিশেষ করে চীন এবং ভারতে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এ ব্যাপারটাকে আরও শক্তপোক্ত করেছে যে, দূষিত বায়ু বেশকিছু দিক দিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে সক্ষম। যেমন- শুক্রাণুর ক্ষতি, জন্মগত ত্রুটি, স্ট্রোকের ঝুঁকি, কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি। বায়ু দূষণ মানসিক সমস্যাও বাড়ায়। দেখা যায় বায়ু দূষণের পরিমাণ যত বেশি হয়, মানুষের হতাশা, বিষাদ, অস্থিরতা এবং অন্যান্য নেতিবাচক অনুভূতির প্রকোপ ততই বেশি হয়। বায়ু দূষণের সাথে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার বেশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় জানা যায়। বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, ফলে এর প্রভাব পড়ে জলবায়ুর ওপর এবং তা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।