উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ বায়ু যা দূষণ বা অস্বাভাবিকত্ব হওয়ার ফলে মানবজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ু; যা দূষণের মাত্রা ব্যাপকতর হচ্ছে। এর ফলে আমাদের চারপাশের দূষিত পরিবেশ জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। কলকারখানা হতে নির্গত কালো ধোঁয়া শ্বাস গ্রহণের সময় শরীরে প্রবেশ করে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সর্দি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, শ্বাস গ্রহণে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিজ, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, হাইপারটেনশন, রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা হ্রাস, হৃদরোগ, অবসন্নতা, মাথা ঘুরা, আলসার, বমিবমি ভাব, খিচুনি প্রভৃতি রোগ দেখা দেয়। এছাড়া নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলোর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় ফুসফুস ফুলে যায় এবং পানি জমে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে ওজন স্তর নষ্ট হয়ে সূর্য হতে অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আগমন করছে। ফলে এই রশ্মি মানুষের ত্বকে ক্যানসার সৃষ্টি করে, অন্ধত্ব বৃদ্ধি করে, মানুষসহ সকল প্রাণীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।
সুতরাং বলা যায় যে, মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে বায়ুতে গ্যাসসমূহের হ্রাস-বৃদ্ধি হওয়ায় উপরোল্লিখিত রোগসমূহের বিস্তার ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এছাড়া কিছু অঞ্চলে কার্বন ডাইঅক্সাইড হ্রাস পাওয়ার ফলে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ তৈরিতে বিঘ্ন হচ্ছে। এতে প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরিতে বাধা হচ্ছে। এ কারণে মানুষের খাদ্যজনিত অভাবের কারণে পুষ্টিহীনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।