উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ও 'গ' স্তর বলতে যথাক্রমে ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত স্তর দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
ভূপৃষ্ঠে সংলগ্ন স্তরটিকে বলা হয় ট্রপোস্ফিয়ার। এর গড় গভীরতা ১৩ কি.মি ধরা হয়। অন্যদিকে ট্রপোপসের উপর বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটিকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়। ট্রাপোপস হতে এর বিস্তার প্রায় ৩২ কি.মি.।
ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে প্রতি ১০০ মিটার উচ্চতার জন্য ০.৬০ সে. উষ্ণতা হ্রাস পায়। অর্থাৎ প্রতি ৩০০ মিটারে প্রায় ১.৮° সে. উষ্ণতা কমে। বায়ুর এ স্তর মানুষের প্রয়োজনীয় একটি স্তর। কারণ এস্তরের নিম্নভাগে মানুষসহ সব প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান এবং মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, কুয়াশা, ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সবকিছুই ঘটে থাকে।
অপরদিকে, স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে উচ্চতা অনুযায়ী উষ্ণতা হ্রাস পায় না; বরং বৃদ্ধি পায়। এস্তরের বায়ুতে ধূলিকণা ও জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অতি নগণ্য এবং মেঘ প্রায় দেখাই যায় না। এ স্তরে ওজোন গ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্তর রয়েছে যাকে ওজোনোস্ফিয়ার বলে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আসতে এই উপস্তরটি বাধা দেয়। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
সুতরাং বলা যায় যে, বায়ুমন্ডলের উল্লিখিত দুটি স্তরই মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের জন্য প্রয়োজনীয় স্তর।