উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত বায়ু বলতে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমি বায়ুকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত বায়ুপ্রবাহের দ্বারা কখনো বৃষ্টিপাত হয় আবার কখনো বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বদিক হতে বায়ু প্রবাহিত হয়। উক্ত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ার কারণে এ বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না বলে শীতকালে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয় না।
অন্যদিকে, প্রাক-মৌসুমি বায়ুর পূর্ববর্তী গ্রীষ্মকালের বৈশিষ্ট্য হলো অধিক তাপমাত্রা ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির ঘটনা। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার কারণে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। ফলে তাপমাত্রায় তার প্রভাব পড়ে। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ দিকে উচ্চচাপ এবং উত্তর দিকে তথা বাংলাদেশে নিম্নচাপ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়ার ফলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ সময় শীতকালের চেয়ে বৃষ্টিপাত অনেকটা বেশি পরিলক্ষিত হয়।
অপরদিকে, বর্ষাকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত তুলনামূলক বেশি উত্তপ্ত হয় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে উচ্চচাপ বজায় থাকে। বায়ু সবসময় উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এই সময় মাদাগাস্কার দ্বীপপুঞ্জের মাস্কেরেনে দ্বীপ (উচ্চচাপ অঞ্চল) যে বায়ু উত্তর গোলার্ধে প্রবাহিত হয়। যাত্রাপথে বায়ু সোমালিয়ান পাহাড়ি অঞ্চলে বাধা পেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে প্রবাহিত হয় আরব সাগরের উপর দিয়ে। যা ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিপুল জলরাশির উপর দিয়ে আসার সময় বায়ু অনেক জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে যা বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, শীতকালীন মৌসুমি বায়ুতে জলীয়বাষ্প পায় না বলে বৃষ্টি কম হয়। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে জলীয়বাষ্প পায় বলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং সর্বাকালে এ বায়ুতে জলীয়বাষ্প পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় এ সময় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটায়।