উদ্দীপকের রায়হান চৌধুরীর নিজ দেশ বাংলাদেশ। উক্ত দেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ। দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ঊর্ধ্বে উঠে এবং এর উপরিস্থ অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিক থেকে আসতে থাকে। এ দুই বায়ুপ্রবাহ পরস্পরের সংস্পর্শে আসা মাত্র ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।
বাংলাদেশকে মৌসুমি জলবায়ুর অঞ্চল বলা হয়। কারণ গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে | উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। এ জলীয় বাষ্পসম্পন্ন মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। গ্রীষ্মকালে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০%। অন্যদিকে শীতকালে উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমি বায়ু থাকায় বৃষ্টিপাত হয় না।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ, আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল গ্রীষ্মকাল এবং মৃদু শুষ্ক শীতকাল। জলবায়ুর এরূপ বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেশ সুজলা- সুফলা ও শস্যশ্যামল দেশে পরিণত হয়েছে। আর মানুষের জীবন জীবিকার সাথে মৌসুমি বায়ু অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। তাই এদেশকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়।