উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-ভূমধ্যসাগরীয় এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে যে জলবায়ু দেখতে পাওয়া যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। এটি মহাদেশসমূহের পশ্চিম উপকূল অঞ্চলে ৩০০ হতে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দেখা যায়। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের দেশসমূহ দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, ক্যালিফোর্নিয়া, মধ্য চিলি, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু। অধিক তাপযুক্ত বৃক্ষহীন গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিবহুল, শীতকাল এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তুষারপাত হয়। সূর্য গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে অনেকটা লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এ সময় তাপমাত্রা বেশ বৃদ্ধি পায়। শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা এ অঞ্চলে খুবই বেশি। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০০ ফা. বা ১০১০ সে.। এছাড়া এখানে গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আয়ন বায়ু এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হলেও আকাশ কখনো একেবারে মেঘাচ্ছন্ন হয় না। প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে কেবল শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক আয়ন বায়ুর দরুন গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫০ সে.মি. হতে ৭৫ সে.মি.।
সুতরাং ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, এ জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও মনোরম এবং মনুষ্যবাসের খুবই উপযোগী।