উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' হলো নদীর প্রাথমিক পর্যায় বা পার্বত্য অবস্থা এবং 'গ' হলো নদীর নিম্ন পর্যায় বা সমভূমি অবস্থা। উৎস হতে মোহনায় পতিত হওয়া পর্যন্ত নদীর গতিপথকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়। যথা- পার্বত্য অবস্থা বা ঊর্ধ্বগতি, সমভূমি অবস্থা বা মধ্যগতি এবং বদ্বীপ অবস্থা বা নিম্নগতি ।
ঊর্ধ্বগতি হলো নদীর প্রাথমিক অবস্থা। পর্বতের যে স্থান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়েছে সেখান থেকে সমভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর ঊর্ধ্বগতি বলে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিভাগ ঢালু ও উঁচুনিচু থাকে বলে নদীর গতিবেগ প্রবল থাকে। প্রবল স্রোতের আঘাতে ভূত্বক থেকে শিলাখণ্ড ভেঙে পড়ে এবং তা স্রোতের সাথে নিম্নদিকে গড়িয়ে অগ্রসর হতে থাকে। অন্যদিকে নদীর শেষ অংশ বা নদীর নিম্নগতিকে বদ্বীপ অবস্থা বলা হয়। এ সময় স্রোতের বেগ খুব কম থাকে। নদীর এ অংশে স্রোতের বেগ কমে যাওয়ায় নদীবাহিত বালুকা, কর্দম ও পলি নদীগর্ভে ও মোহনায় সঞ্চিত হয়ে নদীর গতিপথে বাধার সৃষ্টি করে। নদীর গতি বাধা পেয়ে তা দুই দিকে চলে যায়। কালক্রমে নদীমুখে এ পলি সঞ্চিত ও ভূভাগ উঁচু হয়ে মাত্রাহীন 'ব' এর আকার ধারণ করে ত্রিকোণাকার দ্বীপের সৃষ্টি করে। একে বদ্বীপ বলে ।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সৃষ্টির শুরুতে নদী যতটা দ্ৰুতবেগে বহমান, শেষভাগে ততটাই মিয়মান।