মেহেদী সাহেবের নিজ দেশ হলো বাংলাদেশ যেখানে মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করে এবং ভ্রমণকৃত অঞ্চল হলো ইউরোপীয় অঞ্চল যেখানে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বিরাজ করে ।
এ উভয় জলবায়ুর মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় । নিচে এ দুই অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো—
• ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে এবং যেসব দেশের উপর দিয়ে এ বায়ু প্রবাহিত হয় সেসব দেশের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। অন্যদিকে, মহাদেশগুলোর পশ্চিমাংশে ৩৩° থেকে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যে জলবায়ু দেখতে পাওয়া যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে।
• মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে শুষ্ক অয়ন বায়ু এবং শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।
• মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল বৃষ্টিহীন । অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
• মৌসুমি জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে জল হতে স্থলভাগের দিকে এবং শীতকালে স্থল হতে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় । অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অয়ন বায়ু স্থল থেকে জলভাগের দিকে এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ু জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
• মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের অধিক থাকে। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় ।
• মৌসুমি জলবায়ুতে শীত ও গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ৫° সে. এবং ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে শীত ও গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.১° সে. ।
• মৌসুমি অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বার্ষিক ২৫ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয় ।
সুতরাং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় জলবায়ু অঞ্চলে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বেশিরভাগই বৈসাদৃশ্যতা বিরাজ করে। অর্থাৎ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বৈসাদৃশ্যতা পরিলক্ষিত হয়।