উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে নিরক্ষীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু। নিচে এ দুটি জলবায়ুর বৈশাদৃশ্য বর্ণনা করা হলো-
সাধারণত বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নিরক্ষীয় জলবায়ু নিরূপণ করা যায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং দিবাভাগের দৈর্ঘ্য সারাবছর প্রায় সমান থাকে বলে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা সারাবছরই অধিক থাকে এবং বিভিন্ন মাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য খুবই কম হয়ে থাকে। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২২° - ৩৪° সে. পর্যন্ত। নিরক্ষীয় অঞ্চলে আনুভূমিকভাবে তাপমাত্রা পরিবর্তনের হার খুব কম বলে বায়ু চাপের পরিবর্তনের হারও কম। ফলে আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের বেগও অতি কম। কেবল প্রান্তভাগে অয়ন বায়ুর প্রবেশজনিত কারণে আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের বেগ অপেক্ষাকৃত অধিক হয় এবং নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের দিকে বায়ুর বেগ ক্রমশ কমে যায়। এ অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০ সে.মি. মতো। সুতরাং বলা যায় যে, উপরিউক্ত উপাদানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই আমরা নিরক্ষীয় জলবায়ু চিহ্নিত করতে পারি।
অন্যদিকে মহাদেশসমূহের পশ্চিমাংশে ৩০° হতে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এ জলবায়ু দেখা যায়। ভূমধ্যসাগর এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে এ জলবায়ুর বিস্তৃতি ও প্রভাব সর্বাধিক বলে উপক্রান্তীয় মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তের এ জলবায়ুকেও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলা হয়। এ জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না বলে এ অঞ্চলের জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল। গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা (২১°-২৭°) সেলসিয়াস এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা (৪°-১০°) সেলসিয়াস। সমুদ্র উপকূল হতে দেশের অভ্যন্তরে তাপমাত্রার ব্যবধান কমতে থাকে। এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতীশিতোষ্ণ অঞ্চলের বলে তাপ তেমন প্রখর নয়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত (২৫-৭৫) সেন্টিমিটার। সমুদ্র উপকূল হতে মহাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমতে থাকে। আকাশ প্রায়ই মেঘমুক্ত থাকে। এ অঞ্চলে শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু এবং গ্রীষ্মকালে শুষ্ক অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়।
সুতরাং 'ক' ও 'খ' জলবায়ু অঞ্চলের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বেশিরভাগই বৈসাদৃশ্যতা বিরাজ করে। অর্থাৎ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বৈসাদৃশ্যতা পরিলক্ষিত হয়।