উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চল বলতে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং 'খ' অঞ্চল বলতে বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য বিশ্লেষণ করা হলো: বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় মূলত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে। এ বায়ু বিশাল মহাসাগরের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয় বাষ্পে সমৃদ্ধ থাকে। এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৫ সে.মি. হতে ৭ সে.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। উপকূল হতে মহাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমতে থাকে। পর্বতের প্রতিপাদ অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। অপরদিকে, বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত কালবৈশাখী থেকে সংঘটিত হয়। সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক হতে এ ঝড়ের উৎপত্তি হয়। গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে বায়ুতে পরিচলনের সৃষ্টি করে। এ সময় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবাহিত উষ্ণ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু দেশের উত্তর-পশ্চিমে পৌঁছে পরিচলন প্রক্রিয়ায় উপরে উঠতে থাকে। এ বায়ুর ঠিক উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে জেট বায়ু নামে পরিচিত শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ দুই বিপরীতগামী বায়ুপ্রবাহের সন্ধিস্থলে বজ্রবিদ্যুৎস্পৃষ্ট ঝড় শুরু হয়। সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ের গা ঘেঁষে পরিচলন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়। শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু' প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে এতে জলীয় বাষ্প থাকে না বললেই চলে। ফলে শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ফলে এ সময় দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দুটির ভৌগোলিক অবস্থার ভিন্নতার কারণে ঋতুভিত্তিক বৃষ্টিপাতের মধ্যে তারতম্য লক্ষ করা যায়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক

সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
