উদ্দীপকে 'খ' পর্যায়ে নদী কী ধরনের ভূমিরূপ গঠন করে ? ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' পর্যায় হলো নদীর মধ্য পর্যায় বা মধ্যগতি। মধ্যগতিতে নদী ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত উভয়ের ধরনের ভূমিরূপই গঠন করে। মধ্যগতিতে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ : মধ্যগতিতে নদী অববাহিকায় শিলা নরম থাকায় পানির স্রোতের আঘাতে ক্ষয়ের ফলে নদী এঁকেবেঁকে অগ্রসর হয়ে সর্পিল বাঁক সৃষ্টি হয়। নদী আঁকাবাঁকা অবস্থায় চলতে থাকায় নদীর বাঁকের বৃদ্ধি ঘটলে নদীর হঠাৎ সোজা পথে নদীছেদন ভূমিরূপ দেখা যায়। মধ্যগতিতে নদীর পানি অসমানভাবে হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে নদী সিঁড়ির ন্যায় নদীমঞ্চ নামক ভূপ্রকৃতির সৃষ্টি করে। মধ্যগতিতে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ : বহুকাল ধরে নদীর দুকূল উপচে সৃষ্ট বন্যার ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় প্লাবন সমভূমির সৃষ্টি হয়। বন্যার সময় নদীর উভয়কূল প্লাবিত হলে নদীবাহিত ভারি পদার্থসমূহ নদীর তীরে সঞ্চিত হয়ে বাঁধের ন্যায় ভূমিরূপের সৃষ্টি করে, যা প্রাকৃতিক বাঁধ নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক বাঁধের পরে একটি ধীর ও শান্ত যে ঢাল লক্ষ করা যায় তা হলো পশ্চাৎ ঢাল। প্রাকৃতিক বাঁধের পশ্চাতে নদীর পলি সঞ্জয় ক্রমশ কম হওয়ায় তা নিম্নভূমিরূপে অবস্থান করে। বর্ষার পরে বন্যার পানি সরে গেলে এ নিম্নভূমিতে জল আবদ্ধ হয়ে পশ্চাৎ জলাভূমি সৃষ্টি করে। আঁকাবাঁকা নদীর যে তীরে স্রোত আঘাত হানে ঠিক তার বিপরীত দিকে পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে বাঁকের চর সৃষ্টি হয়। নদীর তলদেশে বালি, নুড়ি, কাদা ইত্যাদি জমা হয়ে বালুচর সৃষ্টি হয়। আঁকাবাঁকা নদীর মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থানে কোনো এক প্লাবনের সময় ক্ষয়প্রাপ্ত হলে ঐ নদী তার পুরাতন বাঁকা পথটি পরিত্যাগ করে নতুন এক সোজাপথে প্রবাহিত হয়। ফলে পুরাতন খাতটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদে পরিণত হয়। অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের মুখে প্রতিবছর পলি জমে জমে কোনো সময়ে হ্রদের উভয় মুখই বন্ধ হয়ে কদম ছিপি সৃষ্টি হয়। শুষ্ক থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত নদীর পানির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ফলে নদীর পলিসমূহও ধাপে ধাপে সঞ্চিত হয়ে নদীধাপ বা নদীমঞ্জু সৃষ্টি করে।
HSC Geography 1st Paper Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকে 'খ' পর্যায়ে নদী কী ধরনের ভূমিরূপ গঠন করে ? ব্যাখ্যা করো ।
ঢাকা কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
