কেবল স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষকই নয়, শাসক হিসেবেও এর নির্মাতা অর্থাৎ আব্দুল মালিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন -উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।ইসলামের ইতিহাসে 'রাজেন্দ্র' নামে পরিচিত আব্দুল মালিক হলেন উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি উমাইয়া শাসনকে এমনভাবে পুনর্গঠন ও সুদৃঢ়করণ করেন যে, তার ওপর ভিত্তি করে তার সন্তানগণ একটানা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ প্রশাসনকে নানা প্রকার সংস্কারের মাধ্যমে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। তিনি প্রাথমিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলা করেছেন এবং আরবি ভাষার উন্নয়ন ও আরবি মুদ্রা প্রচলনের মাধ্যমে প্রশাসনে স্থায়ী কৃতিত্বের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র শুধু আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সরকারি কাগজপত্র আরবি ভাষায় রক্ষিত হতো। আব্দুল মালিক শাসনব্যবস্থাকে স্বতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয়করণ করার উদ্দেশ্যে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। তার শাসনব্যবস্থায় এরূপ প্রশাসনিক সংস্কার ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি তার খিলাফতকালে তৎকালীন বিদ্রোহপূর্ণ অবস্থাকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে সকল বাধা কাটিয়ে উমাইয়া শাসনকে স্বতন্ত্র রূপ দান করেন। আল মুখতারকে দমন, খালিদ ও আমরের বিদ্রোহ দমন, আব্দুল্লাহ, ইবনে যুবায়েরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আফ্রিকা পুনরুদ্ধার প্রভৃতি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়াও শাসননীতি সংস্কার তথা আরবি ভাষার প্রাধান্য, ডাক বিভাগের সংস্কার, আরবি মুদ্রার প্রচলন, রাজস্ব সংস্কার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড উমাইয়া বংশের ভিত মজবুতকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এককথায় আব্দুল মালিক উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক এবং এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।