Chapter 4 : উমাইয়া খিলাফত Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 4 : উমাইয়া খিলাফত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৪০

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো"- কথাটি শাহরিয়ার তুষার ছোট বেলা থেকেই গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা। দেশের প্রধানমন্ত্রী মেধাবী তুষারের গুণে মুগ্ধ হয়ে তার সাথে নিজ মেয়ের বিয়ে দেন। অনেক দামি দামি স্বর্ণালংকার দেন মেয়েকে। জনগণের ব্যাপক সমর্থনে তুষার এবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি তার স্ত্রীকে আদেশ দিলেন, তাঁর পিতার দেয়া দামি দামি স্বর্ণালংকার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে কেননা ওগুলো জনগণের টাকায় কেনা ছিল। তবে তাঁর গৃহীত নীতি, তাঁর বংশের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

Rajshahi · 2017

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আমির মুয়াবিয়া।
কারবালার কাহিনিকে মর্মান্তিক বলা হয় কেন?

উত্তর

কারবালার যুদ্ধে অত্যন্ত করুণভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয় এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নবি করিম (স)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করা হয়। তাই এ হত্যাকান্ডকে মর্মান্তিক বলা হয়। ৬০ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের বাহিনী ও ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়। ইয়াজিদ বাহিনী ফোরাত নদীর পাড় দখল করে ইমাম হোসেনের বাহিনীকে পানি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে পানির অভাবে ইমাম হোসেনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাসেম মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইমাম হোসেন নিজপুত্র শিশু আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য গেলে আসগর শরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ইয়াজিদের নির্দেশে পাপিষ্ট সীমার তরবারি দ্বারা ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করে। নবি করিম (স)-এর দৌহিত্রের এ বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডকে তাই বিষাদময় ঘটনা বলা হয়।
উদ্দীপকে শাহরিয়ার তুষারের সাথে উমাইয়া যুগের কোন খলিফার চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শাহরিয়ার তুষারের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ উমাইয়া বংশের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এক শ্রেষ্ঠ ও মহান শাসক ছিলেন। তিনি তার শাসনামলে কুরআন- সুন্নাহর আলোকে সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। তিনি অনাড়ম্বর ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। উদ্দীপকে তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো- এ কথাটি শাহরিয়ার তুষার গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। তাই তিনি তার স্ত্রীকে পিতার দেওয়া সকল স্বর্ণালংকার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন। অনুরূপভাবে উমর বিন আবদুল আজিজ উমাইয়াদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার যুগে জন্মগ্রহণ করলেও এসব কিছু তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি তার শাসনামলে উমাইয়াদের সকল অনিয়ম পরিহার করে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসন ব্যবস্থাকে অনুসরণ করেন। তাছাড়া তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। তিনি প্রথম ওমরের (রা) মতো তালিযুক্ত কাপড় পরিধান করতেন। তিনি তার স্ত্রী ফাতিমার যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সব অলংকার বিক্রি করে সে অর্থ রাজ কোষাগারে জমা দেন। আর এ বিষয়গুলোই শাহরিয়ার তুষারের সাথে ওমর বিন আবদুল আজিজের সাদৃশ্য রচনা করেছে।
তিনি কি উমাইয়া খিলাফত পতনের জন্য দায়ী ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উক্ত খলিফার অর্থাৎ খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি না।খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিলেও এ বংশের পতনে তার গৃহীত নীতি সম্পূর্ণরূপে দায়ী ছিল না। কেননা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার শাসনকালের প্রতিটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। তাছাড়া তার উদার ও সাম্যনীতির ফলে উমাইয়া বংশের প্রতি কেউ শত্রুভাবাপন্ন ছিল না। দ্বিতীয় ওমর (ওমর বিন আবদুল আজিজ) তার শাসনামলে উমাইয়া, হাশেমি, আরব-অনারব, হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করেন এবং অনেকাংশে সফল হন। রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। উমাইয়া খিলাফত পতনের দায় তার ওপর আরোপিত হওয়া ঠিক নয়। কেননা তার তিরোধানের পর যদি তার নীতি অনুসৃত হতো তাহলে আলী ও আব্বাসি বংশীয়রা সহজে ক্ষুব্ধ হতো না। তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ নন। তার মৃত্যুর পর পূর্বের অসাম্য ও ভেদাভেদ নীতি আরব সমাজে নতুন করে আবির্ভূত হওয়ায় উমাইয়াবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে এবং উমাইয়াদের পতন হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, উমাইয়া বংশের পতনের পেছনে ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার দায়ী ছিল না। তবে তার শাসন সংস্কার উমাইয়াদের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পতন ত্বরান্বিত করেছিল তার পরবর্তী অযোগ্য শাসকগণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো"- কথাটি শাহরিয়ার তুষার ছোট বেলা থেকেই গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা। দেশের প্রধানমন্ত্রী মেধাবী তুষারের গুণে মুগ্ধ হয়ে তার সাথে নিজ মেয়ের বিয়ে দেন। অনেক দামি দামি স্বর্ণালংকার দেন মেয়েকে। জনগণের ব্যাপক সমর্থনে তুষার এবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি তার স্ত্রীকে আদেশ দিলেন, তাঁর পিতার দেয়া দামি দামি স্বর্ণালংকার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে কেননা ওগুলো জনগণের টাকায় কেনা ছিল। তবে তাঁর গৃহীত নীতি, তাঁর বংশের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

Rajshahi · 2017

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আমির মুয়াবিয়া।
কারবালার কাহিনিকে মর্মান্তিক বলা হয় কেন?

উত্তর

কারবালার যুদ্ধে অত্যন্ত করুণভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয় এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নবি করিম (স)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করা হয়। তাই এ হত্যাকান্ডকে মর্মান্তিক বলা হয়। ৬০ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের বাহিনী ও ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়। ইয়াজিদ বাহিনী ফোরাত নদীর পাড় দখল করে ইমাম হোসেনের বাহিনীকে পানি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে পানির অভাবে ইমাম হোসেনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাসেম মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইমাম হোসেন নিজপুত্র শিশু আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য গেলে আসগর শরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ইয়াজিদের নির্দেশে পাপিষ্ট সীমার তরবারি দ্বারা ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করে। নবি করিম (স)-এর দৌহিত্রের এ বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডকে তাই বিষাদময় ঘটনা বলা হয়।
উদ্দীপকে শাহরিয়ার তুষারের সাথে উমাইয়া যুগের কোন খলিফার চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শাহরিয়ার তুষারের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ উমাইয়া বংশের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এক শ্রেষ্ঠ ও মহান শাসক ছিলেন। তিনি তার শাসনামলে কুরআন- সুন্নাহর আলোকে সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। তিনি অনাড়ম্বর ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। উদ্দীপকে তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো- এ কথাটি শাহরিয়ার তুষার গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। তাই তিনি তার স্ত্রীকে পিতার দেওয়া সকল স্বর্ণালংকার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন। অনুরূপভাবে উমর বিন আবদুল আজিজ উমাইয়াদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার যুগে জন্মগ্রহণ করলেও এসব কিছু তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি তার শাসনামলে উমাইয়াদের সকল অনিয়ম পরিহার করে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসন ব্যবস্থাকে অনুসরণ করেন। তাছাড়া তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। তিনি প্রথম ওমরের (রা) মতো তালিযুক্ত কাপড় পরিধান করতেন। তিনি তার স্ত্রী ফাতিমার যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সব অলংকার বিক্রি করে সে অর্থ রাজ কোষাগারে জমা দেন। আর এ বিষয়গুলোই শাহরিয়ার তুষারের সাথে ওমর বিন আবদুল আজিজের সাদৃশ্য রচনা করেছে।
তিনি কি উমাইয়া খিলাফত পতনের জন্য দায়ী ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উক্ত খলিফার অর্থাৎ খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি না।খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিলেও এ বংশের পতনে তার গৃহীত নীতি সম্পূর্ণরূপে দায়ী ছিল না। কেননা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার শাসনকালের প্রতিটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। তাছাড়া তার উদার ও সাম্যনীতির ফলে উমাইয়া বংশের প্রতি কেউ শত্রুভাবাপন্ন ছিল না। দ্বিতীয় ওমর (ওমর বিন আবদুল আজিজ) তার শাসনামলে উমাইয়া, হাশেমি, আরব-অনারব, হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করেন এবং অনেকাংশে সফল হন। রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। উমাইয়া খিলাফত পতনের দায় তার ওপর আরোপিত হওয়া ঠিক নয়। কেননা তার তিরোধানের পর যদি তার নীতি অনুসৃত হতো তাহলে আলী ও আব্বাসি বংশীয়রা সহজে ক্ষুব্ধ হতো না। তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ নন। তার মৃত্যুর পর পূর্বের অসাম্য ও ভেদাভেদ নীতি আরব সমাজে নতুন করে আবির্ভূত হওয়ায় উমাইয়াবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে এবং উমাইয়াদের পতন হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, উমাইয়া বংশের পতনের পেছনে ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার দায়ী ছিল না। তবে তার শাসন সংস্কার উমাইয়াদের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পতন ত্বরান্বিত করেছিল তার পরবর্তী অযোগ্য শাসকগণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। তবে তার পুত্র দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। দেবপালের প্রতিটি অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিলেন তার দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছুসংখ্যক দক্ষ সেনাপতি।

Dhaka · 2017

কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?

উত্তর

আমির মুয়াবিয়াকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়।
খলিফা আব্দুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। এ চার জন পুত্র হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫-৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.) এরা পরবর্তীকালে খলিফা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা উমাইয়া বংশকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।" এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয়।
উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের সাথে খলিফা আব্দুল মালিকের কোন কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের রাজস্ব সংস্কারের সামঞ্জস্য রয়েছে। খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে আবদুল মালিক এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হন। তার শাসনামলে নওমুসলিমরা শুধু যাকাত ব্যতীত অন্য কোনো কর দিত না। তাছাড়া অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য অনারব মুসলমানগণ গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নেয়। তারা সেনাবাহিনীতে যোগদান করে নিয়মিত ভাতাও পেতে থাকে। এতে চরম অর্থসংকট দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কার করেন, যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকের রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকও নিজ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করার জন্য ব্যাপকভাবে কর ব্যবস্থা সুসংহত করেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রাদেশিক শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন-ইউসুফের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এগুলো হলো- প্রথমত, ইসলাম গ্রহণ করলেও নবদীক্ষিত অনারব মুসলমানদের ভূমি রাজস্ব বা খারাজ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব নবদীক্ষিত মুসলমান গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে তাদের শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য করা হয়। তৃতীয়ত, ভূমিকর যাতে হ্রাস না পায় সে জন্য আরবীয় মুসলমানগণ কর্তৃক মাওয়ালিদের ভূমি ক্রয় নিষিদ্ধ করেন। চতুর্থত, অনুর্বর ও পতিত জমি তিন বছরের জন্য বিনা রাজস্বে কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করার ব্যবস্থা করা হয়। তিন বছর পর ঐ জমির ফসলের ১/২ অংশ রাজস্ব ধার্য হয়। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রাজা ধর্মপালের কাজের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের কর ব্যবস্থা সংস্কারেরই মিল বিদ্যমান।
উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন'। উক্তিটি যথার্থ। খলিফা আবদুল মালিকের পুত্র আল ওয়ালিদ পিতার মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে পিতার বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেন। ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহু স্থানে খলিফা ওয়ালিদের ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়। তার এই সম্প্রসারণ নীতির প্রভাব লক্ষ করা যায় রাজা দেবপালের মধ্যে। রাজা দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে তিনি দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছু সংখ্যক দক্ষ সেনাপতির সহায়তা পেয়েছিলেন। খলিফা ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। তিনি হাজ্জাজ, কোতায়রা, ইবনে কাসিম, তারিক ও মুসার মতো রণনিপুণ সেনাপতির সাহায্য লাভ করেছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্য-বীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে বহুস্থানে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ওয়ালিদের ভাই মাসলামা ও পুত্র আব্বাসের সহায়তায় কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া দখল করতে সক্ষম হন। এদিকে সিন্ধুর রাজা দাহিরের অবজ্ঞাসূচক মনোভাবের কারণে ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু দখল করেন। অন্যদিকে, সেনাপতি মুসার সাহায্যে নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে মেজকা, মিনকা, ইভিকা প্রভৃতি দ্বীপ রোমানদের নিকট হতে জয় করে মুসলিম শাসনভুক্ত করেন। তাছাড়া খলিফা ওয়ালিদ স্পেন জয় করার জন্য মুসাকে প্রেরণ করেন। তার সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেন জয় করেন। এভাবে ওয়ালিদের সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক হতে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে আরম্ভ করে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। পরিশেষে বলা যায়, খলিফা ওয়ালিদের সময়ই ইসলামি সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হয়। এ কারণেই তিনি শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে অধিক পরিচিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। তবে তার পুত্র দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। দেবপালের প্রতিটি অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিলেন তার দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছুসংখ্যক দক্ষ সেনাপতি।

Dhaka · 2017

কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?

উত্তর

আমির মুয়াবিয়াকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়।
খলিফা আব্দুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। এ চার জন পুত্র হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫-৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.) এরা পরবর্তীকালে খলিফা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা উমাইয়া বংশকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।" এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয়।
উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের সাথে খলিফা আব্দুল মালিকের কোন কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের রাজস্ব সংস্কারের সামঞ্জস্য রয়েছে। খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে আবদুল মালিক এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হন। তার শাসনামলে নওমুসলিমরা শুধু যাকাত ব্যতীত অন্য কোনো কর দিত না। তাছাড়া অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য অনারব মুসলমানগণ গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নেয়। তারা সেনাবাহিনীতে যোগদান করে নিয়মিত ভাতাও পেতে থাকে। এতে চরম অর্থসংকট দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কার করেন, যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকের রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকও নিজ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করার জন্য ব্যাপকভাবে কর ব্যবস্থা সুসংহত করেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রাদেশিক শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন-ইউসুফের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এগুলো হলো- প্রথমত, ইসলাম গ্রহণ করলেও নবদীক্ষিত অনারব মুসলমানদের ভূমি রাজস্ব বা খারাজ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব নবদীক্ষিত মুসলমান গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে তাদের শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য করা হয়। তৃতীয়ত, ভূমিকর যাতে হ্রাস না পায় সে জন্য আরবীয় মুসলমানগণ কর্তৃক মাওয়ালিদের ভূমি ক্রয় নিষিদ্ধ করেন। চতুর্থত, অনুর্বর ও পতিত জমি তিন বছরের জন্য বিনা রাজস্বে কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করার ব্যবস্থা করা হয়। তিন বছর পর ঐ জমির ফসলের ১/২ অংশ রাজস্ব ধার্য হয়। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রাজা ধর্মপালের কাজের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের কর ব্যবস্থা সংস্কারেরই মিল বিদ্যমান।
উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন'। উক্তিটি যথার্থ। খলিফা আবদুল মালিকের পুত্র আল ওয়ালিদ পিতার মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে পিতার বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেন। ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহু স্থানে খলিফা ওয়ালিদের ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়। তার এই সম্প্রসারণ নীতির প্রভাব লক্ষ করা যায় রাজা দেবপালের মধ্যে। রাজা দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে তিনি দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছু সংখ্যক দক্ষ সেনাপতির সহায়তা পেয়েছিলেন। খলিফা ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। তিনি হাজ্জাজ, কোতায়রা, ইবনে কাসিম, তারিক ও মুসার মতো রণনিপুণ সেনাপতির সাহায্য লাভ করেছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্য-বীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে বহুস্থানে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ওয়ালিদের ভাই মাসলামা ও পুত্র আব্বাসের সহায়তায় কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া দখল করতে সক্ষম হন। এদিকে সিন্ধুর রাজা দাহিরের অবজ্ঞাসূচক মনোভাবের কারণে ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু দখল করেন। অন্যদিকে, সেনাপতি মুসার সাহায্যে নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে মেজকা, মিনকা, ইভিকা প্রভৃতি দ্বীপ রোমানদের নিকট হতে জয় করে মুসলিম শাসনভুক্ত করেন। তাছাড়া খলিফা ওয়ালিদ স্পেন জয় করার জন্য মুসাকে প্রেরণ করেন। তার সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেন জয় করেন। এভাবে ওয়ালিদের সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক হতে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে আরম্ভ করে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। পরিশেষে বলা যায়, খলিফা ওয়ালিদের সময়ই ইসলামি সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হয়। এ কারণেই তিনি শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে অধিক পরিচিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রিয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।

Dhaka · 2017

'কুব্বাতুস-সাখরা' কী?

উত্তর

'কুব্বাতুস-সাখরা' হলো উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেটি Dom of the Rock নামে পরিচিত।
খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।

উত্তর

খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদাদান করেন অর্থাৎ আরবি ভাষা জাতীয়করণ করেন। খলিফা আবদুল মালিকের রাজত্বকাল উমাইয়া বংশের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ। তার শাসননীতি মূলত আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি শাসনক্ষমতায় বসে দেখলেন যে আরব মুসলিমরা রাজ্যশাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠীই উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে। ফলে আরব মুসলিম শাসননীতি কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণেই খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষাকে জাতীয়করণ করেন।
উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ। মুদ্রা হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু আবদুল মালিকের পূর্বে আরবদের কোনো নিজস্ব মুদ্রা ছিল না। ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। এই সংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটেছে রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কারের ক্ষেত্রে। রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যে তিন ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল। যেমন- বাইজান্টাইনে Dinarious, পারস্যে Darkmah এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে Athene নামক মুদ্রা চালু ছিল। এতে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল ছিল না। মুদ্রা বিনিময়ের সমস্যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসুবিধা দেখা দিত। এছাড়া মুদ্রার ছাপ ও মূল্য নির্ণয় একেবারে অনির্ধারিত থাকায় বাজারে অনায়াসে জাল মুদ্রা প্রচলিত হতো। এসব কারণে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলনের জন্য ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে জাতীয় টাকশাল গঠন করেন। তিনি দিনার, দিরহাম ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রার প্রচলন করেন। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণ ও আরবীয়করণের জন্য মুদ্রায় ক্রসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। সুতরাং বোঝা যায়, রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

উত্তর

স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটি যথার্থ। ইসলামের ইতিহাসে রাজেন্দ্র নামে পরিচিত আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা বলে উমাইয়া সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এ বলিষ্ঠ চরিত্রের মন ছিল শিল্পানুরাগী। তার মার্জিত রুচিবোধের সামান্য প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের রাজার মধ্যে। উদ্দীপকের রাজা আলমগীর সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন। স্থাপত্য শিল্পে তার এ অবদান সকলের দৃষ্টি কাড়লেও এগুলো আবদুল মালিকের অবদানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আবদুল মালিক শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নির্মাতা হিসেবে তার কৃতিত্ব অপরিসীম। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে সামরিক শহর 'ওয়াসিত' ও আল আকসা মসজিদ তার স্থাপত্য কীর্তির উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে স্থাপত্য শিল্পে তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে 'কুব্বাতুস সাখরা বা Dom of the Rock নামক একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা ইবনে জুবায়েরের শাসনাধীন মক্কার কাবাগৃহের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে একটি স্থাপত্য কীর্তি নির্মাণ করেন। এটি ছিল মহানবি (স)-এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র পাথরের ওপর নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্থাপত্য শিল্প। এছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা বা সরকারি দলিল-দস্তাবেজখানা স্থাপন করেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের রাজা স্থাপত্য শিল্পে যে উন্নয়ন করেছেন তার চেয়ে খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রিয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।

Dhaka · 2017

'কুব্বাতুস-সাখরা' কী?

উত্তর

'কুব্বাতুস-সাখরা' হলো উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেটি Dom of the Rock নামে পরিচিত।
খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।

উত্তর

খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদাদান করেন অর্থাৎ আরবি ভাষা জাতীয়করণ করেন। খলিফা আবদুল মালিকের রাজত্বকাল উমাইয়া বংশের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ। তার শাসননীতি মূলত আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি শাসনক্ষমতায় বসে দেখলেন যে আরব মুসলিমরা রাজ্যশাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠীই উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে। ফলে আরব মুসলিম শাসননীতি কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণেই খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষাকে জাতীয়করণ করেন।
উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ। মুদ্রা হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু আবদুল মালিকের পূর্বে আরবদের কোনো নিজস্ব মুদ্রা ছিল না। ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। এই সংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটেছে রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কারের ক্ষেত্রে। রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যে তিন ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল। যেমন- বাইজান্টাইনে Dinarious, পারস্যে Darkmah এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে Athene নামক মুদ্রা চালু ছিল। এতে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল ছিল না। মুদ্রা বিনিময়ের সমস্যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসুবিধা দেখা দিত। এছাড়া মুদ্রার ছাপ ও মূল্য নির্ণয় একেবারে অনির্ধারিত থাকায় বাজারে অনায়াসে জাল মুদ্রা প্রচলিত হতো। এসব কারণে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলনের জন্য ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে জাতীয় টাকশাল গঠন করেন। তিনি দিনার, দিরহাম ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রার প্রচলন করেন। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণ ও আরবীয়করণের জন্য মুদ্রায় ক্রসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। সুতরাং বোঝা যায়, রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

উত্তর

স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটি যথার্থ। ইসলামের ইতিহাসে রাজেন্দ্র নামে পরিচিত আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা বলে উমাইয়া সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এ বলিষ্ঠ চরিত্রের মন ছিল শিল্পানুরাগী। তার মার্জিত রুচিবোধের সামান্য প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের রাজার মধ্যে। উদ্দীপকের রাজা আলমগীর সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন। স্থাপত্য শিল্পে তার এ অবদান সকলের দৃষ্টি কাড়লেও এগুলো আবদুল মালিকের অবদানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আবদুল মালিক শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নির্মাতা হিসেবে তার কৃতিত্ব অপরিসীম। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে সামরিক শহর 'ওয়াসিত' ও আল আকসা মসজিদ তার স্থাপত্য কীর্তির উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে স্থাপত্য শিল্পে তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে 'কুব্বাতুস সাখরা বা Dom of the Rock নামক একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা ইবনে জুবায়েরের শাসনাধীন মক্কার কাবাগৃহের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে একটি স্থাপত্য কীর্তি নির্মাণ করেন। এটি ছিল মহানবি (স)-এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র পাথরের ওপর নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্থাপত্য শিল্প। এছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা বা সরকারি দলিল-দস্তাবেজখানা স্থাপন করেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের রাজা স্থাপত্য শিল্পে যে উন্নয়ন করেছেন তার চেয়ে খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গাজান খান সিংহাসনে আরোহণ করে পূর্বসূরিদের সকল অন্যায় নীতি পরিহার করেন। ধর্মপ্রাণ এই শাসক শাসনকার্যে পূর্ণ ইসলামি রীতিনীতি পুনঃস্থাপন করেন। রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করে তিনি অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেন।

Rajshahi · 2018

ডোম-অব-দি রক কী?

উত্তর

৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভই ডোম-অব-দি রক (কুব্বাতুস সাখরা) নামে পরিচিত।
কাকে কেন, রাজেন্দ্র বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। এরা হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫ ৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫ ৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০ ৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪ ৭৪৩ খ্রি.)। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন,“আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্ৰ বলা হয়।
উদ্দীপকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একজন শ্রেষ্ঠ ও মহান শাসক ছিলেন খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ। তিনি তার আগের শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার নীতি পরিহার করে খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ অনুসারে শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজান খানের (মোঙ্গল নেতা) কাজে ওমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকের গাজান খানের মতো উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণ করে মুয়াবিয়া থেকে সুলায়মান পর্যন্ত উমাইয়া খলিফাদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার নীতি পরিহার করেন। তিনি একজন ধার্মিক খলিফা হিসেবে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসননীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে তিনি জীবনযাপন ও শাসনকাজ পরিচালনা করেন। এজন্য তিনি দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন । ধনী, দরিদ্র, আরব-অনারব, আরব মুসলিম, নওমুসলিম, হিমারীয়-মুদারীয় এরূপ ভেদাভেদ তিনি পছন্দ করতেন না। তাই সবার প্রতি তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। খলিফা হিসেবে ইসলাম প্রচারকে তিনি প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন। এজন্য ইসলামের প্রসারকল্পে তিনি ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ (ভূমিকর) ও জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এছাড়া তাকে অতিরিক্ত পেনশন দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন। এভাবে তিনি রাজস্ব নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেন। তাই বলা যায়, গাজান খান ও ওমর বিন আব্দুল আজিজের কর্মকাণ্ড একইসূত্রে গাঁথা।
'উক্ত খলিফার শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী – বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উক্ত খলিফা অর্থাৎ ওমর বিন আব্দুল আজিজের শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী-মন্তব্যটি যথার্থ। খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ তার আগের ও পরের সব উমাইয়া শাসক থেকে চারিত্রিক গুণাবলি, ধর্মপালন ও শাসনকার্যে একেবারেই ভিন্ন ছিলেন। তিনি ধার্মিক, সুবিচারক, উদার, সরল ও শান্তি প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে বিশেষ মনোযোগী হন এবং প্রজাকল্যাণে জনসাধারণের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর রহিত করে একটি জনকল্যাণকামী শাসনব্যবস্থা চালু করেন। ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে ওমর বিন আব্দুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণ করে খুলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসারে একটি জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি তার পূর্ববর্তী খলিফাদের কলুষিত নীতি ত্যাগ করে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নিষ্ঠ, গোত্র ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) ওপর থেকে জিজিয়া ও খারাজ প্রত্যাহার করেন। এছাড়া ইসলামের প্রসারকল্পে ঘোষণা দেন যে, ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ ও জিজিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ফলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ইসলামের সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব-এ নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ থেকে মুক্ত করেন এবং মুসলমানদেরকে যাকাত ও উশর প্রদানের নির্দেশ দেন। খলিফা দ্বিতীয় ওমরের রাজ্য শাসনের মূলমন্ত্র ছিল মানবতার সেবা ও প্রজাপালন। তিনি প্রাদেশিক গভর্নরদের কল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। প্রজাপীড়ন পরিহার করে জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন । উমাইয়াদের চরম শত্রু হাশেমি, খারেজি সবার প্রতি তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। এভাবে ওমর বিন আব্দুল আজিজ উদারনৈতিক জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ওমর বিন আবদুল আজিজ মুসলমান, অমুসলমান, আরব-অনারব, হিমারীয়, মুদারীয় সবার সমানাধিকারের ভিত্তিকে একটি জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গাজান খান সিংহাসনে আরোহণ করে পূর্বসূরিদের সকল অন্যায় নীতি পরিহার করেন। ধর্মপ্রাণ এই শাসক শাসনকার্যে পূর্ণ ইসলামি রীতিনীতি পুনঃস্থাপন করেন। রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করে তিনি অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেন।

Rajshahi · 2018

ডোম-অব-দি রক কী?

উত্তর

৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভই ডোম-অব-দি রক (কুব্বাতুস সাখরা) নামে পরিচিত।
কাকে কেন, রাজেন্দ্র বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। এরা হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫ ৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫ ৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০ ৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪ ৭৪৩ খ্রি.)। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন,“আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্ৰ বলা হয়।
উদ্দীপকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একজন শ্রেষ্ঠ ও মহান শাসক ছিলেন খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ। তিনি তার আগের শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার নীতি পরিহার করে খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ অনুসারে শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজান খানের (মোঙ্গল নেতা) কাজে ওমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকের গাজান খানের মতো উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণ করে মুয়াবিয়া থেকে সুলায়মান পর্যন্ত উমাইয়া খলিফাদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার নীতি পরিহার করেন। তিনি একজন ধার্মিক খলিফা হিসেবে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসননীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে তিনি জীবনযাপন ও শাসনকাজ পরিচালনা করেন। এজন্য তিনি দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন । ধনী, দরিদ্র, আরব-অনারব, আরব মুসলিম, নওমুসলিম, হিমারীয়-মুদারীয় এরূপ ভেদাভেদ তিনি পছন্দ করতেন না। তাই সবার প্রতি তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। খলিফা হিসেবে ইসলাম প্রচারকে তিনি প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন। এজন্য ইসলামের প্রসারকল্পে তিনি ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ (ভূমিকর) ও জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এছাড়া তাকে অতিরিক্ত পেনশন দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন। এভাবে তিনি রাজস্ব নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেন। তাই বলা যায়, গাজান খান ও ওমর বিন আব্দুল আজিজের কর্মকাণ্ড একইসূত্রে গাঁথা।
'উক্ত খলিফার শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী – বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উক্ত খলিফা অর্থাৎ ওমর বিন আব্দুল আজিজের শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী-মন্তব্যটি যথার্থ। খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ তার আগের ও পরের সব উমাইয়া শাসক থেকে চারিত্রিক গুণাবলি, ধর্মপালন ও শাসনকার্যে একেবারেই ভিন্ন ছিলেন। তিনি ধার্মিক, সুবিচারক, উদার, সরল ও শান্তি প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে বিশেষ মনোযোগী হন এবং প্রজাকল্যাণে জনসাধারণের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর রহিত করে একটি জনকল্যাণকামী শাসনব্যবস্থা চালু করেন। ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে ওমর বিন আব্দুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণ করে খুলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসারে একটি জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি তার পূর্ববর্তী খলিফাদের কলুষিত নীতি ত্যাগ করে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নিষ্ঠ, গোত্র ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) ওপর থেকে জিজিয়া ও খারাজ প্রত্যাহার করেন। এছাড়া ইসলামের প্রসারকল্পে ঘোষণা দেন যে, ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ ও জিজিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ফলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ইসলামের সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব-এ নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ থেকে মুক্ত করেন এবং মুসলমানদেরকে যাকাত ও উশর প্রদানের নির্দেশ দেন। খলিফা দ্বিতীয় ওমরের রাজ্য শাসনের মূলমন্ত্র ছিল মানবতার সেবা ও প্রজাপালন। তিনি প্রাদেশিক গভর্নরদের কল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। প্রজাপীড়ন পরিহার করে জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন । উমাইয়াদের চরম শত্রু হাশেমি, খারেজি সবার প্রতি তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। এভাবে ওমর বিন আব্দুল আজিজ উদারনৈতিক জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ওমর বিন আবদুল আজিজ মুসলমান, অমুসলমান, আরব-অনারব, হিমারীয়, মুদারীয় সবার সমানাধিকারের ভিত্তিকে একটি জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। পরবর্তীতে মোঙ্গলগণ মধ্য এশিয়া, বাগদাদ ও ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করে।

Rajshahi · 2018

উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?

উত্তর

উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান।
মুয়াবিয়াকে (রা) আরবের প্রথম রাজা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন। তাই তাকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়। উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মুয়াবিয়া খিলাফত লাভের সাথে সাথেই সাধারণতন্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হযরত ইমাম হাসান (রা)-এর সাথে স্বাক্ষরিত সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে বসরার শাসনকর্তা মুগিরার প্ররোচনায় তার জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের পথ সুগম করেন। এজন্য মুয়াবিয়াকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়।
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার পানি কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ একজন পরাক্রমশালী ও সুদক্ষ শাসক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার দশ বছরের (৭০৫-৭১৫খ্রি.) রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগান থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা আল ওয়ালিদ হাজ্জাজ, কোতায়বা, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের অসাধারণ দক্ষতা এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বুখারা, সমরখন্দ, খোজান্দা, তাসখন্দ, ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌঁছান এবং ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হন। খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন । ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের সহায়তায় সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করেন। তাই বলা যায়, চেঙ্গিস খান ও আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত খলিফার তিনজন সেনাপতির কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উক্ত খলিফার তিন জন সেনাপতি অর্থাৎ কুতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম ও তারিক বিন জিয়াদ রাজ্য বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম। তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। তার দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ কৌশলের ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্দীপকে রাজ্য বিস্তারে দক্ষ সেনাপতিদের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের সহায়তায় বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে তার সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক থেকে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। খলিফা আল ওয়ালিদকেও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে তার বিখ্যাত তিনজন সেনাপতি সহযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে কুতায়বা বিন মুসলিম অন্যতম। ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কুতায়বা বিন মুসলিমকে খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলে মধ্য এশিয়ায় মুসলিম রাজ্য বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। তিনি এক একে তুর্কিস্থান, ফারগানা ও বুখারা দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়ায় উমাইয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তা জয় করেন। আল ওয়ালিদের আরেকজন বিখ্যাত সেনাপতি হলেন তারিক বিন জিয়াদ । তিনি ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনে অভিযান পরিচালনা করেন এবং রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, আল ওয়ালিদের রাজ্য সম্প্রসারণে তার সেনাপতিদের অবদান ছিল অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। পরবর্তীতে মোঙ্গলগণ মধ্য এশিয়া, বাগদাদ ও ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করে।

Rajshahi · 2018

উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?

উত্তর

উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান।
মুয়াবিয়াকে (রা) আরবের প্রথম রাজা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন। তাই তাকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়। উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মুয়াবিয়া খিলাফত লাভের সাথে সাথেই সাধারণতন্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হযরত ইমাম হাসান (রা)-এর সাথে স্বাক্ষরিত সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে বসরার শাসনকর্তা মুগিরার প্ররোচনায় তার জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের পথ সুগম করেন। এজন্য মুয়াবিয়াকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়।
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার পানি কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ একজন পরাক্রমশালী ও সুদক্ষ শাসক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার দশ বছরের (৭০৫-৭১৫খ্রি.) রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগান থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা আল ওয়ালিদ হাজ্জাজ, কোতায়বা, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের অসাধারণ দক্ষতা এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বুখারা, সমরখন্দ, খোজান্দা, তাসখন্দ, ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌঁছান এবং ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হন। খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন । ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের সহায়তায় সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করেন। তাই বলা যায়, চেঙ্গিস খান ও আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত খলিফার তিনজন সেনাপতির কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উক্ত খলিফার তিন জন সেনাপতি অর্থাৎ কুতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম ও তারিক বিন জিয়াদ রাজ্য বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম। তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। তার দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ কৌশলের ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্দীপকে রাজ্য বিস্তারে দক্ষ সেনাপতিদের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের সহায়তায় বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে তার সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক থেকে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। খলিফা আল ওয়ালিদকেও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে তার বিখ্যাত তিনজন সেনাপতি সহযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে কুতায়বা বিন মুসলিম অন্যতম। ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কুতায়বা বিন মুসলিমকে খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলে মধ্য এশিয়ায় মুসলিম রাজ্য বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। তিনি এক একে তুর্কিস্থান, ফারগানা ও বুখারা দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়ায় উমাইয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তা জয় করেন। আল ওয়ালিদের আরেকজন বিখ্যাত সেনাপতি হলেন তারিক বিন জিয়াদ । তিনি ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনে অভিযান পরিচালনা করেন এবং রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, আল ওয়ালিদের রাজ্য সম্প্রসারণে তার সেনাপতিদের অবদান ছিল অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'প্রত্যয়' ক্রিকেট অঙ্গনে একটি উদীয়মান ও শক্তিশালী ক্রীড়া সংঘ। সম্প্রতি তালাত আজিজ ক্রীড়া সংঘের নেতৃত্ব লাভ করেছে। তার নেতৃত্বে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘ দেশে ও দেশের বাইরে একের পর এক শিরোপা অর্জন করে চলছে। তালাত আজিজের দলে আছে বিশ্ব বরেণ্য কিছু ক্রিকেটার। তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে মূল্যবান ও মর্যাদা সম্পন্ন শিরোপা ছিনিয়ে আনছে। অবশ্য সংঘের পূববর্তী অধিনায়ক রাহাত আলীর অবদানও এক্ষেত্রে কম নয়। তিনি একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত ও সুনিপুণ দল এবং অনুকূল পরিবেশ তালাত আজিজের হাতে তুলে দিয়ে যান।

Dhaka · 2018

উমাইয়া সাধু কে?

উত্তর

খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজকে উমাইয়া সাধু বলা হয় ৷
আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। এরা হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫ ৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫ ৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০ ৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪ ৭৪৩ খ্রি.)। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন,“আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিলের ক্ষেত্র কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে একের পর এক বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিল রয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ তার পিতা আবদুল মালিকের মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তার শাসনকালে (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খিলাফত সম্প্রসারিত হয়। এসব অঞ্চলে বিজয়াভিযান সফল করা ক্ষেত্রে তার কয়েজন দক্ষ সেনাপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকেও এরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দলের কিছু বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়ের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন সম্ভব হয়। খলিফা আল ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। তার শাসনকালে তিনি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, কোতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম, তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়েরের মতো রণকৌশলী সেনাপতির সাহায্য লাভ করেছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্য-বীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে নতুন নতুন অঞ্চলে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি কোতায়বা বিন মুসলিম বোখারা ও সমরখন্দ বিজয়ের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় অভিযান শুরু করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তিনি সমগ্র মধ্য এশিয়া জয় করে চীনের কাশগড় পর্যন্ত খিলাফতের সীমানা সম্প্রসারণ করেন। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করেন। অন্যদিকে, উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়ের বার্বার সেনানায়ক তারিক বিন জিয়াদকে পাঠিয়ে ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় দেশ স্পেন জয় করেন। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের তালাত আজিজের শিরোপা বিজয় এবং খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্য বিজয়ের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
'সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া 'শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন'— উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় করো।

উত্তর

'সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন' – উক্তিটি যথার্থ । উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের শাসনামলে (৬৮৫-৭০৫ খ্রি.) পুরো সাম্রাজ্যে উমাইয়াবিরোধী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। হেজাজে আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। ইমাম হুসাইনের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য অনুশোচনাকারী দলের সদস্য মুখতার কুফা দখল করে নিজস্ব শাসন কায়েম করেন। এছাড়া খারেজি সম্প্রদায় উমাইয়া বংশের ধ্বংস সাধনে তৎপর হয়ে ওঠে। এসব অভ্যন্তরীণ কলহের সুযোগে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমান্তে রোমানদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড উমাইয়া শাসনের জন্য বিরাট হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে খলিফা আবদুল মালিক ধৈর্য, কৌশল ও সাহসের সাথে এসব সমস্যার মোকাবিলা করে উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘের অধিনায়ক রাহাত আলী একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত ও সুনিপুণ দল গঠন করেন। এই দলের নেতৃত্ব লাভ করেই তার উত্তরসূরি তালাত আজিজ একের পর এক শিরোপা জয় করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবদুল মালিক সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দমন করার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেন। রাজস্বব্যবস্থার সংস্কার করে সাম্রাজ্যের আর্থিক ভিত মজবুত করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার পুত্র খলিফা আল ওয়ালিদের জন্য একটি বিদ্রোহ মুক্ত সাম্রাজ্য, দক্ষ প্রশাসন, অঢেল সম্পদ এবং অপরাজেয় সেনাবাহিনী রেখে যান। এরূপ একটি সাম্রাজ্য লাভ করার কারণেই খলিফা আল ওয়ালিদের পক্ষে সেটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছিল। উপরের আলোচনায় দেখা যায়, উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক তাদের উত্তরসূরিদের জন্য যথাক্রমে সুগঠিত দল এবং সাম্রাজ্য রেখে গেছেন। এর ফলেই তাদের উত্তরসূরিরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিল। সুতরাং বল যায়, সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও রাহাত আলী এবং খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'প্রত্যয়' ক্রিকেট অঙ্গনে একটি উদীয়মান ও শক্তিশালী ক্রীড়া সংঘ। সম্প্রতি তালাত আজিজ ক্রীড়া সংঘের নেতৃত্ব লাভ করেছে। তার নেতৃত্বে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘ দেশে ও দেশের বাইরে একের পর এক শিরোপা অর্জন করে চলছে। তালাত আজিজের দলে আছে বিশ্ব বরেণ্য কিছু ক্রিকেটার। তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে মূল্যবান ও মর্যাদা সম্পন্ন শিরোপা ছিনিয়ে আনছে। অবশ্য সংঘের পূববর্তী অধিনায়ক রাহাত আলীর অবদানও এক্ষেত্রে কম নয়। তিনি একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত ও সুনিপুণ দল এবং অনুকূল পরিবেশ তালাত আজিজের হাতে তুলে দিয়ে যান।

Dhaka · 2018

উমাইয়া সাধু কে?

উত্তর

খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজকে উমাইয়া সাধু বলা হয় ৷
আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই আবদুল মালিকের পুত্র ছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। এরা হলেন- আল ওয়ালিদ (৭০৫ ৭১৫ খ্রি.) সুলাইমান (৭১৫ ৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০ ৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪ ৭৪৩ খ্রি.)। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন,“আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিলের ক্ষেত্র কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে একের পর এক বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিল রয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ তার পিতা আবদুল মালিকের মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তার শাসনকালে (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খিলাফত সম্প্রসারিত হয়। এসব অঞ্চলে বিজয়াভিযান সফল করা ক্ষেত্রে তার কয়েজন দক্ষ সেনাপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকেও এরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দলের কিছু বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়ের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন সম্ভব হয়। খলিফা আল ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। তার শাসনকালে তিনি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, কোতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম, তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়েরের মতো রণকৌশলী সেনাপতির সাহায্য লাভ করেছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্য-বীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে নতুন নতুন অঞ্চলে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি কোতায়বা বিন মুসলিম বোখারা ও সমরখন্দ বিজয়ের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় অভিযান শুরু করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তিনি সমগ্র মধ্য এশিয়া জয় করে চীনের কাশগড় পর্যন্ত খিলাফতের সীমানা সম্প্রসারণ করেন। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করেন। অন্যদিকে, উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়ের বার্বার সেনানায়ক তারিক বিন জিয়াদকে পাঠিয়ে ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় দেশ স্পেন জয় করেন। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের তালাত আজিজের শিরোপা বিজয় এবং খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্য বিজয়ের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
'সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া 'শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন'— উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় করো।

উত্তর

'সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন' – উক্তিটি যথার্থ । উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের শাসনামলে (৬৮৫-৭০৫ খ্রি.) পুরো সাম্রাজ্যে উমাইয়াবিরোধী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। হেজাজে আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। ইমাম হুসাইনের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য অনুশোচনাকারী দলের সদস্য মুখতার কুফা দখল করে নিজস্ব শাসন কায়েম করেন। এছাড়া খারেজি সম্প্রদায় উমাইয়া বংশের ধ্বংস সাধনে তৎপর হয়ে ওঠে। এসব অভ্যন্তরীণ কলহের সুযোগে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমান্তে রোমানদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড উমাইয়া শাসনের জন্য বিরাট হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে খলিফা আবদুল মালিক ধৈর্য, কৌশল ও সাহসের সাথে এসব সমস্যার মোকাবিলা করে উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘের অধিনায়ক রাহাত আলী একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত ও সুনিপুণ দল গঠন করেন। এই দলের নেতৃত্ব লাভ করেই তার উত্তরসূরি তালাত আজিজ একের পর এক শিরোপা জয় করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবদুল মালিক সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দমন করার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেন। রাজস্বব্যবস্থার সংস্কার করে সাম্রাজ্যের আর্থিক ভিত মজবুত করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার পুত্র খলিফা আল ওয়ালিদের জন্য একটি বিদ্রোহ মুক্ত সাম্রাজ্য, দক্ষ প্রশাসন, অঢেল সম্পদ এবং অপরাজেয় সেনাবাহিনী রেখে যান। এরূপ একটি সাম্রাজ্য লাভ করার কারণেই খলিফা আল ওয়ালিদের পক্ষে সেটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছিল। উপরের আলোচনায় দেখা যায়, উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক তাদের উত্তরসূরিদের জন্য যথাক্রমে সুগঠিত দল এবং সাম্রাজ্য রেখে গেছেন। এর ফলেই তাদের উত্তরসূরিরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিল। সুতরাং বল যায়, সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও রাহাত আলী এবং খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো