উক্ত খলিফার অর্থাৎ খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি না।খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিলেও এ বংশের পতনে তার গৃহীত নীতি সম্পূর্ণরূপে দায়ী ছিল না। কেননা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার শাসনকালের প্রতিটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। তাছাড়া তার উদার ও সাম্যনীতির ফলে উমাইয়া বংশের প্রতি কেউ শত্রুভাবাপন্ন ছিল না।
দ্বিতীয় ওমর (ওমর বিন আবদুল আজিজ) তার শাসনামলে উমাইয়া, হাশেমি, আরব-অনারব, হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করেন এবং অনেকাংশে সফল হন। রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। উমাইয়া খিলাফত পতনের দায় তার ওপর আরোপিত হওয়া ঠিক নয়। কেননা তার তিরোধানের পর যদি তার নীতি অনুসৃত হতো তাহলে আলী ও আব্বাসি বংশীয়রা সহজে ক্ষুব্ধ হতো না। তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ নন। তার মৃত্যুর পর পূর্বের অসাম্য ও ভেদাভেদ নীতি আরব সমাজে নতুন করে আবির্ভূত হওয়ায় উমাইয়াবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে এবং উমাইয়াদের পতন হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, উমাইয়া বংশের পতনের পেছনে ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার দায়ী ছিল না। তবে তার শাসন সংস্কার উমাইয়াদের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পতন ত্বরান্বিত করেছিল তার পরবর্তী অযোগ্য শাসকগণ।