প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে একের পর এক বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিল রয়েছে।
খলিফা আল ওয়ালিদ তার পিতা আবদুল মালিকের মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তার শাসনকালে (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খিলাফত সম্প্রসারিত হয়। এসব অঞ্চলে বিজয়াভিযান সফল করা ক্ষেত্রে তার কয়েজন দক্ষ সেনাপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকেও এরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দলের কিছু বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়ের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন সম্ভব হয়। খলিফা আল ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। তার শাসনকালে তিনি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, কোতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম, তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়েরের মতো রণকৌশলী সেনাপতির সাহায্য লাভ করেছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্য-বীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে নতুন নতুন অঞ্চলে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি কোতায়বা বিন মুসলিম বোখারা ও সমরখন্দ বিজয়ের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় অভিযান শুরু করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তিনি সমগ্র মধ্য এশিয়া জয় করে চীনের কাশগড় পর্যন্ত খিলাফতের সীমানা সম্প্রসারণ করেন। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করেন। অন্যদিকে, উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়ের বার্বার সেনানায়ক তারিক বিন জিয়াদকে পাঠিয়ে ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় দেশ স্পেন জয় করেন। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের তালাত আজিজের শিরোপা বিজয় এবং খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্য বিজয়ের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।