রাজা জুলিয়াস সিজারের মতো খলিফা আব্দুল মালিকও ভাষার ক্ষেত্রে প্রভূত সংস্কার করেছিলেন- উক্তিটি যথার্থ।উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকারি কর্মচারীদের রাষ্ট্রীয় কাজে রোমান ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। অন্য ভাষাভাষী মানুষও যাতে সহজে রোমান। ভাষা আয়ত্ত করতে পারে সেজন্য তিনি রোমান লিপির সংস্কার সাধন করেন। রাসুলে করিমের আমলে ইসলামি রাষ্ট্র শুধু আরবদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সরকারি কাগজপত্র আরবি ভাষায় লিখিত হতো। কিন্তু খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে পারস্য, মিশর, সিরিয়া প্রভৃতি স্থানে আধিপত্য বিস্তারের ফলে যাবতীয় সরকারি দলিলপত্র ঐ সকল প্রদেশের নিজস্ব ভাষায় রাখার নিয়ম প্রচলিত হয়। আব্দুল মালিক রাষ্ট্রকে আরবীয়করণ বা জাতীয়করণের এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থার প্রবর্তনের উদ্দেশ্য আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করেন। সালিহ বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলমানের পরামর্শে আব্দুল মালিক সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন (৬৯৩ খ্রি.)। ফলে আঞ্চলিক ভাষাসমূহের পরিবর্তে অফিস-আদালতে দলিল-পত্রাদি আরবি ভাষায় রক্ষিত হবার নিয়ম চালু হয়। এই ব্যবস্থার ফলে সাম্রাজ্যের অনারব অমুসলমানগণ কর্মচ্যুত হলেন এবং তাদের স্থলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে আরব মুসলমানগণ নিযুক্ত হন। ফলে আরবদের মৌলিক প্রতিভা বিকাশের পথ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতির পথ সুগম হয়। আরবি ভাষা সহজতর লিখন ও পঠনের জন্য আব্দুল মালিক হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফের, সহযোগিতায় বর্ণমালায় হরকত ও নোক্তা - প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থার ফলে আরবি লিপির পূর্ণতা সাধিত হয় এবং - অধিক সংখ্যক পাঠকের মধ্যে তা প্রসার লাভ করে।