না. আমি মনে করি উক্ত 'শাসক অর্থাৎ উমাইয়া খলিফা আব্দুল আজিজের নীতিসমূহ উমাইয়া বংশের পতনের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ছিল না। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের শাসনকালের প্রত্যেকটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য খলিফা দ্বিতীয় উমর পুরোপুরি দায়ী নন। তিনি মাওয়ালিদের ওপর অন্যায়ভাবে আরোপ করা জিজিয়া ও খারাজ রহিত করেছিলেন। এর ফলে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে এবং খারাজ ও জিজিয়া প্রদান থেকে অব্যাহতি পায়। এজন্য রাজস্ব আয় কমে যায় এবং অর্থের অভাবে সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। একারণে অনেকে তাকে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী করে। কিন্তু তা পুরাপুরি সঠিক নয়। কেননা তার উত্তরাধিকারিগণ যদি তার অনুসৃত নীতি অনুসরণ করত, তাহলে মাওয়ালি, হাশেমি ও আলীর সমর্থকগণ কখনো উমাইয়া বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিত না। ফলে উমাইয়াদেরও হয়ত পতন হতো না। রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। তার নিরপেক্ষতার জন্য উমাইয়া বংশের ষড়যন্ত্রকারীরা তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করলে এর জন্য তার নীতি দায়ী নয়, ষড়যন্ত্রকারীরা দায়ী। খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজকে উমাইয়া বংশ পতনে দায়ী করে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয় সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা পাওয়া যায় না। কারণ তার তিরোধানের পর যদি তার নীতি অনুসৃত হতো, তাহলে আলীর সমর্থক ও আব্বাসিরা সহজেই ক্ষুব্ধ হতো না। তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ নন।