হ্যাঁ, উক্ত খলিফা তথা মুয়াবিয়াকে আরবদের প্রথম রাজা বলা হয়।
খলিফা মুয়াবিয়া দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও বিচক্ষণ কূটনীতিবিদ হিসেবে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজেকে পারস্য ও রোমান সম্রাটদের মতো আড়ম্বর ও জাঁকজমকপূর্ণ রাখতে পছন্দ করতেন। উদ্দীপকে জনাব সাইমুন মৃত্যুর পূর্বে অযোগ্য পুত্রকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। তিনি শাসনতন্ত্রে ক্ষেত্রবিশেষে উদারতা ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করতে। তিনি রাজতন্ত্রের জাঁকজমকতা ও আড়ম্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা মুয়াবিয়া (রা) ছিলেন উদার ও ন্যায়নিষ্ঠ। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিকট তিনি অত্যন্ত কঠোর, দরিদ্র ও দুর্বলদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও সুবিবেচক ছিলেন। তবে তিনি রাজতন্ত্রের জাকজমকতা ও আড়ম্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি প্রথম শাসক যিনি নিজেকে রাজ মর্যাদায় ভূষিত করেন। তিনি রাজকীয় সিংহাসন ব্যবহার, প্রাসাদদ্বারে রক্ষী বাহিনী নিয়োগ, জামাতের নামাজের সময় মসজিদে সাধারণ মানুষ হতে দূরে পৃথক তাঁবু এবং মাকসুরা বা রেশম ও মুক্তার মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করে রাজকীয় জাঁকজমকতা রক্ষা করতেন। সর্বোপরি তিনি নিজ পুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করে রাজতন্ত্রের সচনা করেন।
তাই আলোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, খলিফা মুয়াবিয়া (রা) কে আরবদের প্রথম রাজা বলা যুক্তিযুক্ত। কেননা তিনি উত্তরাধিকার নীতির প্রবর্তন করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।