উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন- উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।খলিফা আল ওয়ালিদ রণনিপুণ উচ্চশিক্ষিত না হওয়া সত্ত্বেও সৌভাগ্যক্রমে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, মুসা বিন নুসাইর, কুতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম এবং তারিক বিন জিয়াদের মতো বিশ্ববিশ্রুত রণকুশলীদের সহায়তা পেরেছিলেন। যা দ্বারা তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এ তিনটি মহাদেশে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীয়ন করেন। সেনাপতি কুতায়বা বিন মুসলিম ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে বলখ, তুখারিস্তান ও বুখারা অধিকার করেন। এরপর ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে আমু দরিয়া অতিক্রম করে খাওয়ারিজিম ও সমরকন্দ দখল করেন। অতঃপর ৭১০-৭১৩ খ্রিষ্টাব্দে খোজান্দা, শাশ (তাসখন্দ) এবং ফারগানা অধিকার করেন। তার সর্বশেষ অভিযান পরিচালিত হয় ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয়ের মাধ্যমে। এভাবে খলিফা ওয়ালিদের সাম্রাজ্য চীন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। অন্যদিকে, সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়ালিদের রাজত্ব কায়েম করেন। তিনি সিন্ধু অভিযানের মাধ্যমে ৭১১-৭১৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দেবল, সিহরওয়ান, নিরুন বা হায়দারাবাদ, সিস্তান, রাওরার ব্রাহ্মণাবাদ ও মুলতান জয় করেন। সেনাপতি মুসা বিন নুসায়ের ৭০০ খ্রিষ্টাব্দে আফ্রিকায় অভিযান চালান। তিনি মিশর, মরক্কো ও তানজিয়ারে মুসলিম শাসন সৃদৃঢ় করে ভূমধ্যসাগরের কতিপয় দ্বীপ দখল করেন। এগুলো হলো- মেজর্কা, মিনকা, আইভিকা প্রভৃতি। এছাড়া তিনি উত্তর আফ্রিকার উপকূল অঞ্চল এবং আটলান্টিক দখল করেন। এভাবে বিশ্বসেরা সেনাপতিদের সহায়তায় খলিফা ওয়ালিদের সাম্রাজ্য পূর্ব সিন্ধু হতে চীন, পশ্চিমে আটলান্টিক এবং ফ্রান্সের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।